
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় জয় পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। এর মধ্য দিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছে দলটি। মধ্যবর্তী নির্বাচনে সাধারণত ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দল কিছুটা চাপে থাকলেও এবার রিপাবলিকানদের বড় পরাজয়কে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই বছরের শাসনের প্রতি ভোটারদের জোরালো প্রত্যাখ্যান হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে ডেমোক্র্যাটদের এই সাফল্যের পেছনে পাঁচটি প্রধান কারণ তুলে ধরা হয়েছে।
ডেমোক্র্যাটদের জয়ের অন্যতম কারণ জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় চাপে পড়েছেন ভোটাররা। জরিপে অংশ নেওয়া ৭৯ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন, গত এক বছরে মূল্যস্ফীতির কারণে তারা ও তাদের পরিবার মাঝারি থেকে গুরুতর সমস্যার মুখে পড়েছেন। তাদের বড় একটি অংশের অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির কারণেই পণ্যের দাম বেড়েছে। পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধও রিপাবলিকানদের জন্য বড় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থার কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি যুদ্ধের বিরোধিতা করেছেন ৬৩ শতাংশ ভোটার।
তৃতীয় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ডেমোক্র্যাটদের পরিকল্পিত ও সুসংগঠিত নির্বাচনী প্রচারণা। জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, স্বাস্থ্যসেবাকে সাশ্রয়ী করা এবং দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে প্রচারণা চালিয়েছেন দলটির প্রার্থীরা। টেক্সাস, কানসাস, সাউথ ক্যারোলাইনা ও মিশিগানের মতো রাজ্যে প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে নিজেদের গ্রহণযোগ্য করে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা ও সাধারণ মানুষের আর্থিক সংকট নিয়ে তাদের বক্তব্য ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অন্যদিকে, রিপাবলিকানদের কয়েকজন প্রার্থী ভোটারদের মৌলিক উদ্বেগগুলোকে যথাযথ গুরুত্ব দিতে পারেননি।
চতুর্থ কারণ ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়া। নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, ইরান যুদ্ধ এবং প্রশাসনের বিভিন্ন নীতির কারণে প্রেসিডেন্টের ওপর অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এমনকি রিপাবলিকান সমর্থকদের মধ্যেও তার জনপ্রিয়তা কমেছে বলে জরিপে উঠে এসেছে। নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্প নিজেকে সামনে রেখে সমর্থকদের উজ্জীবিত করার চেষ্টা করলেও তা প্রত্যাশিত ফল দেয়নি। বরং ভোটারদের কাছে তার উপস্থিতি রিপাবলিকান প্রার্থীদের জন্য বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচনের আগে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে মানুষের উদ্বেগকে যথেষ্ট গুরুত্ব না দেওয়াও দলটির পরাজয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পঞ্চম কারণ হিস্পানিক ও কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের সমর্থনে পরিবর্তন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে হিস্পানিক ও কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের একটি অংশ রিপাবলিকানদের সমর্থন করলেও এবার তাদের বড় একটি অংশ ডেমোক্র্যাটদের দিকে ঝুঁকেছেন। টেক্সাস-মেক্সিকো সীমান্তবর্তী হিস্পানিক অধ্যুষিত এলাকায় ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের তিনটি আসনেই জয় পেয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের তুলনায় হিস্পানিক-সংখ্যাগরিষ্ঠ কাউন্টিগুলোতে রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। অভিবাসন নীতি ও আইসিইর কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষ এবং কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের ডেমোক্র্যাটদের প্রতি সমর্থন বৃদ্ধি রিপাবলিকানদের পরাজয় আরও ত্বরান্বিত করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
টি/