
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোট ও বিরোধী দলগুলোর জোট। ফলে দেশটিতে নতুন সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি এবং সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ৪৮টি আসন পেয়েছে। ১২০ সদস্যের পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। বাকি ১৯টি আসন পেয়েছে আরব নেতৃত্বাধীন দুটি রাজনৈতিক জোট। ফলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সরকার গঠনের সমীকরণ মেলাতে বিরোধী দলগুলোর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে আরব দলগুলোর সমর্থন পাওয়া। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট, ইয়াইর লাপিদ, বামপন্থী নেতা ইয়াইর গোলান ও ডানপন্থী নেতা আভিগদর লিবারম্যানের দল নিয়ে গঠিত বিরোধী জোট মঙ্গলবার এক বৈঠকের পর নেতানিয়াহুর সরকারকে সরিয়ে জাতীয় জরুরি সরকার গঠনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন নিশ্চিত করতে তারা আরব দলগুলোর সমর্থন নেবে, নাকি নেতানিয়াহুর জোটে থাকা অতি-ধর্মীয় ইহুদি দলগুলোকে নিজেদের পক্ষে আনবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। অন্যদিকে নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, নির্বাচনে তার দল লিকুদ সবচেয়ে বড় দল হওয়ায় সরকার গঠনের দায়িত্ব পাওয়ার অধিকার তাঁরই।
এদিকে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে শাস ও ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমের মতো অতি-ধর্মীয় ইহুদি দলগুলোর অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সামরিক বাহিনীতে অতি-ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সদস্যদের বাধ্যতামূলক নিয়োগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আইন পাস না হওয়ায় আগে নেতানিয়াহুর জোট থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করেছিল দল দুটি। তাদের অবস্থান পরিবর্তন হলে সরকার গঠনের হিসাবেও পরিবর্তন আসতে পারে। নির্বাচনের ফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যয়ন হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেবেন সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন আদায়ে সক্ষম এমন একজন পার্লামেন্ট সদস্যকে। প্রাথমিকভাবে তিনি ২৮ দিন সময় পাবেন, প্রয়োজনে আরও ১৪ দিন বাড়ানো যাবে। আগামী ১০ নভেম্বর নতুন নেসেটের সদস্যদের শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে।
সরকার গঠনের জটিলতার পাশাপাশি নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতি মামলাও রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। এ মামলায় তিনি প্রেসিডেন্ট হারজগের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। ফলে সরকার গঠনের দায়িত্ব বণ্টনের পাশাপাশি তাঁর ক্ষমার আবেদন নিয়েও সিদ্ধান্ত নিতে হবে প্রেসিডেন্টকে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন এবং ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাও ইসরায়েলের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। বিশেষ করে ইরানকে কেন্দ্র করে নতুন কোনো নিরাপত্তা সংকট তৈরি হলে দেশটির রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যেতে পারে।
সব মিলিয়ে নির্বাচনে কোনো পক্ষ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় ইসরায়েলে সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। বিরোধী জোটের জন্য আরব দলগুলোর সমর্থন আদায়, অতি-ধর্মীয় দলগুলোর অবস্থান পরিবর্তন এবং জাতীয় ঐক্য সরকার গঠনের সম্ভাবনা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুও ক্ষমতা ধরে রাখতে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরির চেষ্টা করছেন। শেষ পর্যন্ত তিনি ক্ষমতায় থাকতে পারবেন, নাকি বিরোধী জোট নতুন সরকার গঠন করবে, তা নির্ভর করছে আগামী দিনের রাজনৈতিক দর-কষাকষি ও প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের ওপর।
টি/