
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নজিরবিহীন হামলার কয়েক দিন আগে বড় ধরনের হামলার সম্ভাবনা সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছিল—এমন এক প্রতিবেদনের পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নতুন করে তীব্র রাজনৈতিক সমালোচনার মুখে পড়েছেন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, হামলার প্রায় ১০ দিন আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ নেতানিয়াহুকে হামাসের সম্ভাব্য বড় অভিযানের বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন।
তবে নেতানিয়াহুর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এই দাবি পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। কার্যালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওই সময়ে নেতানিয়াহুর সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কোনো ফোনালাপ হয়নি এবং তাঁর কাছ থেকে কোনো ধরনের সতর্কবার্তাও পাওয়া যায়নি। হারেৎজ-এর প্রতিবেদনটি ইসরায়েলি সাংবাদিক শ্লোমি এলদার
প্রতিবেদন প্রকাশের পর চার বিরোধী দলের নেতা—গাদি আইজেনকোট, নাফতালি বেনেট, আভিগডর লিবারম্যান ও ইয়াইর গোলান—নেতানিয়াহু সরকারের “ব্যর্থতা ও অব্যবস্থাপনার” বিষয়ে অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট প্রতিবেদনটিকে সত্য বলে দাবি করে নেতানিয়াহুর কথিত অবহেলাকে “অপরাধমূলক অবহেলা” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়াইর লাপিদও বলেছেন, হামলার আগে তিনি এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তা কর্মকর্তাসহ মিশরীয় কর্মকর্তারা সম্ভাব্য হামলা নিয়ে সতর্ক করেছিলেন।
এদিকে ৭ অক্টোবরের হামলার প্রায় তিন বছর পরও ওই দিনের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা ব্যর্থতার জন্য জবাবদিহির প্রশ্নটি ইসরায়েলের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে আছে। ওই হামলায় ১ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং ২৫০ জনের বেশি মানুষ গাজায় জিম্মি হন। হামলার পর ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী, সামরিক বাহিনীর প্রধান এবং গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের অনেকে পদত্যাগ করেছেন, পদচ্যুত হয়েছেন কিংবা তাঁদের মেয়াদ শেষ হয়েছে। কিন্তু নেতানিয়াহু এখনো স্বাধীন রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠনের দাবির বিরোধিতা করে আসছেন।
নতুন এই বিতর্ককে সামনে রেখে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা নির্বাচনী প্রচারণায় ৭ অক্টোবরের ব্যর্থতাকে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরছেন। গাদি আইজেনকোট অভিযোগ করেছেন, নেতানিয়াহু ইসরায়েলকে “অন্ধভাবে” পরিচালনা করেছেন এবং তিনি ক্ষমতায় গেলে রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠন করবেন। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর সহযোগীরা হামলার আগের রাতে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা তাঁকে যথাযথভাবে সতর্ক করেননি—এমন অবস্থান তুলে ধরছেন। ফলে ৭ অক্টোবরের আগে কী তথ্য নেতানিয়াহুর কাছে ছিল, তিনি কখন তা জানতে পেরেছিলেন এবং কোনো সতর্কবার্তা পেলে তার ভিত্তিতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল—এসব প্রশ্ন আসন্ন নির্বাচনে তাঁর জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
সূত্র: সিএনএন