
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা (OECD) পরিচালিত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী মূল্যায়ন কর্মসূচি বা 'পিসা' (PISA) পরীক্ষায় চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে ইসরায়েল। সংস্থাটির ইতিহাসের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে ২০২৫ সালের প্রকাশিত ফলাফলে দেশটির শিক্ষাক্ষেত্রে পারদর্শিতার স্কোর সর্বকালের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। পঠন, গণিত ও বিজ্ঞান—এই তিনটি মৌলিক বিষাতেই ইসরায়েলি শিক্ষার্থীদের গড় নম্বর ওইসিডির আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের চেয়ে বহু নিচে অবস্থান করছে। এতে বিশ্বমঞ্চে শিক্ষার গুণগতমানে ইসরায়েলের অবস্থান মারাত্মক ধসের মুখে পড়ল।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের বৈশ্বিক র্যাঙ্কিংয়ে ৩৮তম স্থানে থাকা ইসরায়েল এবার নেমে এসেছে ৪৩তম স্থানে। অন্যদিকে উন্নত দেশগুলোর তালিকায় ৩১তম থেকে ৩৩তম অবস্থানে অবনমন ঘটেছে তাদের। ২০০০ সালে পিসা জরিপে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর
শিক্ষাক্ষেত্রে এই নজিরবিহীন পতনের তীব্র সমালোচনা করেছে ইসরায়েলের রাজনৈতিক বিরোধী দলগুলো। বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ ও তাঁর দল ‘ইয়েশ আতিদ’-এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই ফলাফল বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা ও সরকারের ব্যর্থতার এক গুরুতর দলিল। তবে এই বিপর্যয়ের পেছনে দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে দায়ী করেছেন ইসরায়েলের শিক্ষামন্ত্রী ইয়োভ কিশ। তিনি জানান, গাজা ও লেবানন ফ্রন্টে যুদ্ধের চরম মুহূর্তে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সংঘাত, বিমান হামলার সাইরেন এবং শিক্ষকদের সামরিক দায়িত্বে যুক্ত থাকার মতো পরিস্থিতিতেও শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সহনশীলতা দেখিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
পরীক্ষায় ইসরায়েলি শিক্ষার্থীদের প্রাপ্ত নম্বর পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, পঠন বা পাঠোদ্ধারে তাদের স্কোর ৪৭৪ থেকে কমে ৪৩৬-এ নেমেছে। বিজ্ঞানে ৪৬৫ থেকে কমে ৪৪২ এবং গণিতে ৪৫৮ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৪৩৩-এ। ওইসিডির গড় মানদণ্ড (যথাক্রমে ৪৬১, ৪৮২ ও ৪৬৩) থেকে যা বেশ নিচে। একই পরীক্ষায় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের অধীনস্থ শিক্ষার্থীদের ফলাফল ছিল বিজ্ঞানে ৩৫৯, পঠনে ৩৫০ এবং গণিতে ৩৫৪। বিশ্লেষক ও শিক্ষক অভিভাবক সমিতিগুলোর মতে, কোভিড মহামারী-পরবর্তী শিখনঘাটতি এবং টানা যুদ্ধের কারণে শিখন প্রক্রিয়ায় যে ধারাবাহিক বিচ্যুতি ঘটেছে, তারই প্রতিফলন ঘটেছে এই ফলাফলে।
এদিকে, জাতীয় অভিভাবকদের সংগঠন ন্যাশনাল প্যারেন্টস লিডারশিপ অ্যাসোসিয়েশন এই ফলাফলকে নীতি-নির্ধারকদের জন্য একটি চরম সতর্কবার্তা বলে অভিহিত করেছে। তাদের মতে, করোনা ও যুদ্ধের অজুহাত দিয়ে প্রশাসন কোনোভাবেই দায় এড়াতে পারে না, কারণ প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শিক্ষার্থী ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। অন্য এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, দেশের ভেতরে এই নেতিবাচক ফলাফল ঢাকতে ইসরায়েলি শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের জাতীয় মূল্যায়ন সারসংক্ষেপ প্রকাশে বিলম্ব করেছে। চরম এই সংকটে শিক্ষক ও শিক্ষা কাঠামোর সার্বিক সংস্কার ছাড়া ঘুরে দাঁড়ানো অসম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
/টি