
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
সময়ের সঙ্গে ফ্যাশন ও প্রযুক্তিতে এসেছে বড় পরিবর্তন। তবে পুরোনো দিনের প্রতি মানুষের আগ্রহ এখনো কমেনি। সেই নস্টালজিয়াকে এবার নতুন মাত্রা দিয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ১৯৮০-এর দশকের আদলে ছবি তৈরির নতুন ট্রেন্ড। এআইয়ের সাহায্যে বর্তমানের ছবি বদলে অনেকেই দেখছেন, কয়েক দশক আগে তাদের চেহারা কেমন হতে পারত।
চুলের কাট, পোশাক ও মেকআপের পাশাপাশি ছবির পেছনের পরিবেশেও ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে আশির দশকের আবহ। পুরোনো স্টুডিও পোর্ট্রেটের ধরন, উষ্ণ রঙ, ফিল্ম ক্যামেরার দানা এবং তৎকালীন ফ্যাশনের সমন্বয়ে তৈরি হচ্ছে রেট্রো লুক। সাধারণ ব্যবহারকারীদের পাশাপাশি বিভিন্ন তারকাও এমন ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করছেন।
এআই ব্যবহার
আশির দশকের ফ্যাশনের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য, পুরোনো দিনের স্টুডিও পোর্ট্রেট এবং ফিল্ম ক্যামেরার নান্দনিকতা এ ধরনের ছবিকে আলাদা করে তুলছে। একই সঙ্গে নিজের বর্তমান চেহারাকে অতীতের একটি নির্দিষ্ট সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার কৌতূহলও এই ট্রেন্ডের জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ।

এ ধরনের ছবি তৈরির জন্য প্রথমে যেকোনো এআই ছবি তৈরির টুলে নিজের একটি পরিষ্কার ছবি আপলোড করতে হবে। এরপর ছবিটি কীভাবে পরিবর্তন করতে চান, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট নির্দেশনা বা প্রম্পট দিতে হবে।
উদাহরণ হিসেবে এমন প্রম্পট ব্যবহার করা যেতে পারে—
“ছবিটিকে ১৯৮০-এর দশকে তোলা একটি বাস্তবসম্মত পোর্ট্রেটে রূপ দিন। ব্যক্তির মুখের গঠন, পরিচয়, বয়স এবং স্বাভাবিক অভিব্যক্তি অপরিবর্তিত রাখুন। আশির দশকের উপযোগী চুলের স্টাইল, পোশাক ও মেকআপ যুক্ত করুন। ব্যাকগ্রাউন্ডে পুরোনো স্টুডিওর পরিবেশ তৈরি করুন। ৩৫ মিমি ফিল্মের দানা, উষ্ণ রঙ, হালকা ফ্ল্যাশ, স্বাভাবিক ছায়া এবং বাস্তবসম্মত ত্বকের টেক্সচার রাখুন। ছবিটি যেন আধুনিক ছবিতে ভিনটেজ ফিল্টার ব্যবহারের মতো না দেখায়; বরং সত্যিই ১৯৮০-এর দশকে তোলা একটি ছবি মনে হয়। কোনো লেখা, ওয়াটারমার্ক বা আধুনিক উপাদান রাখবেন না।”
আরও বাস্তবসম্মত ফল পেতে প্রম্পটে নির্দিষ্ট পোশাক, চুলের ধরন কিংবা সময়ের উপযোগী কোনো স্থান উল্লেখ করা যেতে পারে। বাংলাদেশের আশির দশকের ফ্যাশন, পুরোনো ঢাকার রাস্তা অথবা সে সময়কার স্টুডিওর পরিবেশ যোগ করলে ছবিতে তৈরি হতে পারে আরও পরিচিত ও স্থানীয় আবহ।

বর্তমানের এআই প্রযুক্তি শুধু ছবির চেহারা পরিবর্তনেই সীমাবদ্ধ নয়। নির্দিষ্ট সময়ের পোশাক, সাজসজ্জা, আলোর ধরন এবং ক্যামেরার বৈশিষ্ট্যও এতে ফুটিয়ে তোলা সম্ভব। ফলে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার মাধ্যমেই বর্তমানের একটি ছবি হয়ে উঠতে পারে বহু বছর আগের কোনো স্মৃতির মতো।
আশির দশকের এই ট্রেন্ড তাই কেবল ছবি সম্পাদনার নতুন কৌশল নয়; বরং প্রযুক্তির মাধ্যমে অতীতকে নতুন করে দেখার একটি মজার উপায়। কারও কাছে যে দশক পুরোনো স্মৃতির অংশ, আবার কারও জন্মেরও আগের সময়—এআই সেই আশির দশককেই ফিরিয়ে আনছে আজকের ছবির ফ্রেমে।