
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
বিয়ে মানবজীবনের ভারসাম্য, প্রশান্তি ও বংশবৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। ইসলামে এটি শুধু সামাজিক বন্ধন নয়, বরং আত্মিক প্রশান্তি ও চরিত্র রক্ষারও একটি উপায়। তবে কোনো ব্যক্তি যদি সারা জীবন বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে তার ক্ষেত্রে শরিয়তের বিধান কী হবে, তা নির্ভর করে তার শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক অবস্থা এবং হারাম কাজে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার ওপর।
ইসলাম বিয়েকে উৎসাহিত করেছে এবং অকারণে চিরকুমার বা চিরকুমারী থাকার মানসিকতাকে নিরুৎসাহিত করেছে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, “وَأَنكِحُوا الْأَيَامَىٰ مِنكُمْ وَالصَّالِحِينَ مِنْ عِبَادِكُمْ وَإِمَاءِكُمْ ۚ إِن يَكُونُوا فُقَرَاءَ يُغْنِهِمُ اللَّهُ مِن فَضْلِهِ” অর্থাৎ, ‘তোমাদের মধ্যে যারা অবিবাহিত, তাদের বিয়ে দাও। তারা অভাবগ্রস্ত হলে আল্লাহ
শরিয়তের দৃষ্টিতে কোনো ব্যক্তির যদি স্বাভাবিক বা প্রবল যৌন চাহিদা থাকে এবং বিয়ে না করলে জিনা বা অন্য কোনো হারাম কাজে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে, তাহলে তার জন্য বিয়ে করা ওয়াজিব হতে পারে। আর যদি শারীরিক সক্ষমতা ও স্বাভাবিক চাহিদা থাকে, কিন্তু নিজেকে হারাম থেকে রক্ষা করার সামর্থ্যও থাকে, তাহলে বিয়ে তার জন্য সুন্নতে মুয়াক্কাদা। অন্যদিকে, কারও যৌন চাহিদা না থাকা, বার্ধক্য বা শারীরিক অক্ষমতার কারণে বিয়ে না করলেও যদি গুনাহে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা না থাকে, তাহলে তার ক্ষেত্রে বিয়ে না করে থাকা জায়েজ হতে পারে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) যুবকদের বিয়ের প্রতি উৎসাহিত করে বলেছেন, “يَا مَعْشَرَ الشَّبَابِ مَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمُ الْبَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ” অর্থাৎ, ‘হে যুবকের দল! তোমাদের মধ্যে যারা বিয়ের সামর্থ্য রাখে, তারা যেন বিয়ে করে। কারণ তা দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থান হেফাজত করে।’ আর যার সামর্থ্য নেই, তাকে রোজা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। (সহিহ বুখারি: ৫০৬৬; সহিহ মুসলিম: ১৪০০)
এ ছাড়া রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “النِّكَاحُ مِنْ سُنَّتِي” অর্থাৎ, ‘বিয়ে আমার সুন্নত।’ (ইবনে মাজাহ: ১৮৪৬) তাই বিশেষ কোনো বাধ্যবাধকতা বা শারীরিক কারণে বিয়ে সম্ভব না হলে বিষয়টি আলাদা। কিন্তু সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও শুধু বিয়ে থেকে দূরে থাকার জন্য সারাজীবন চিরকুমার থাকার সিদ্ধান্ত ইসলামী জীবনব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলিমের উচিত সুন্নাহ অনুসরণ করে নিজের চরিত্র ও ঈমান হেফাজতের চেষ্টা করা।
/টি