
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের মাধ্যমে দেরিতে হলেও জাতির ঘাড় থেকে স্বৈরাচারের একটি কালো ছায়া সরে গেছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রাজধানীর মিন্টু রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি কী কারণে পদত্যাগ করেছেন, সে বিষয়ে তাদের কোনো আগ্রহ নেই। কারণ তাদের বিবেচনায় তিনি আগেই রাষ্ট্রপতি পদে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছিলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বর্তমান স্পিকার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এ জন্য তাকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনকালে তিনি ন্যায়নিষ্ঠ, নির্মোহ ও নিরপেক্ষ থাকবেন
তিনি আরও বলেন, সংবিধান অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। এর মধ্যেই সংসদের অধিবেশন হওয়ার কথা থাকায় স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। সময় এলে তাদের ভূমিকা কী হবে, তা দেখা যাবে বলেও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকায় ডেপুটি স্পিকার স্পিকারের দায়িত্ব পালন করবেন। এতে কোনো সাংবিধানিক সংকট তৈরি হওয়ার কথা নয়। তবে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী পরিবর্তিত বাংলাদেশ গড়তে নবগঠিত সংসদ এখনো এগোয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এক প্রশ্নের জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে কোনো বিশ্বাসযোগ্য আলামত পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, কারণ কোনো ব্যক্তি আইনের ঊর্ধ্বে নন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে। প্রস্তাবক, সমর্থক ও সম্মতির ভিত্তিতে প্রার্থী মনোনয়ন হবে এবং একাধিক প্রার্থী হলে সংসদে ভোটাভুটির মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। তিনি বলেন, তারা এমন একজন রাষ্ট্রপতি চান, যিনি রাষ্ট্রপতির মর্যাদা রক্ষা করবেন, তোষামোদকারী হবেন না এবং রাষ্ট্রের নীতি অনুযায়ী স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করবেন।
রাষ্ট্রপতির চিকিৎসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংবাদ সম্মেলনে জানতে পেরেছেন মো. সাহাবুদ্দিন গুরুতর অসুস্থ এবং বিদেশে চিকিৎসা নিতে চান। বিষয়টি সরকার দেখবে, তারাও খেয়াল রাখবেন। তবে তিনি মনে করেন, সব ধরনের চিকিৎসাই দেশে সম্ভব এবং নির্বাচিত ব্যক্তিদের দেশের চিকিৎসাব্যবস্থার ওপর আস্থা রাখা উচিত। একই সঙ্গে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব এড়ানোর সুযোগ নেই। অভিভাবক হিসেবে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন এবং গণহত্যার বিরুদ্ধে কোনো বক্তব্য দেননি। বরং নীরব থেকে তিনি সমর্থন দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন ডা. শফিকুর রহমান।
/টি