
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–এর অন্যতম সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কমিটি নিয়ে জোর তৎপরতা চলছে। বিএনপির একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে, নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং যে কোনো সময় ঘোষণা আসতে পারে।
ছাত্রদলের নতুন কমিটির শীর্ষ পদে ডজনখানেক নেতার নাম ঘুরে ফিরে আলোচনায় আসছে। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সক্রিয় থাকা নেতাদের মধ্য থেকে কয়েকজনের নাম বেশি শোনা যাচ্ছে। বিএনপির একাধিক সূত্র মতে, ছাত্রদল নেতাদের বয়সের বিষয়টিকে মাথায় রেখে ২০০৯-১০ সেশন থেকে ২০১২-১৩ সেশনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া ছাত্রদল নেতাদের শীর্ষ পদে রেখে নতুন কমিটি ঘোষণা করার পরিকল্পনা করছে। কেন্দ্রীয় কমিটি এই সেশনগুলোর মধ্য থেকে ঘোষিত হলেও বিশ্ববিদ্যালয়
বিএনপি ও ছাত্রদলের একাধিক জনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ পদগুলোতে ২০০৯-১০ সেশন থেকে বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান, যুগ্ম সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান, আরিফুল ইসলাম ও প্রচার সম্পাদক শরিফ প্রধান শুভ আলোচনায় আছে। সবদিক বিবেচনায় আমানউল্লাহ আমানের নাম বেশি আলোচনায় আসছে। ২০১০-১১ সেশন থেকে আলোচনায় আছে ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি গণেশ চন্দ্র সাহস ও সহ-সভাপতি আনিসুর রহমান খন্দকার অনিক প্রমূখ । তবে বিএনপির অনেকেই আরো জুনিয়রদের দিয়ে কমিটি দেওয়ার পক্ষে বলে জানা গেছে।
ছাত্রদলের শীর্ষ পদে এবার বেশি আলোচনায় আছে ২০১১-১২ সেশনে ভর্তি হওয়া ছাত্রদল নেতারা। এদের মধ্যে ঢাবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক নাছির উদ্দিন শাওন, কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রহমান রনি, কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক মো. রাজু আহমেদ, গাজী মো. সাদ্দাম হোসেন, মিনহাজ আহমেদ প্রিন্স, তারেক হাসান মামুন প্রমুখ। এদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক নাছির উদ্দিন শাওন আন্দোলন সংগ্রামে ভূমিকা রাখতে গিয়ে একাধিকবার ছাত্রলীগের হামলার শিকার হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও সামনের সারিতে ভূমিকা রাখেন। বিএনপির হাইকমান্ডও তার বিষয়ে অবগত আছেন। এছাড়া নাহিদুজ্জামান শিপন ও মো. রাজু আহমেদ এবং নাকিবুল ইসলাম চৌধুরীর নামও বেশ আলোচনায় আছে।
এদিকে অপেক্ষাকৃত কম বয়সীদের দিয়ে কমিটি ঘোষণা করার বিষয়টি বিবেচনা রাখায় ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ পদে ২০১২-১৩ সেশনে ভর্তি হওয়া ছাত্রদল নেতারাও চলে আসতে পারে। ২০১২-১৩ সেশনের মধ্যে যারা আলোচনায় আছে তারা হচ্ছেন- ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির পাঠাগার সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম,কেন্দ্রীয় কমিটির যোগাযোগ সম্পাদক আরিফ হাসান, ঢাবি ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক নুর আলম ভূইয়া ইমন প্রমুখ। কেন্দ্রীয় কমিটির পাঠাগার সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম ২০১৯ সালে ডাকসু নির্বাচনে সমাজসেবা সম্পাদক হিসেবে ছাত্রদলের প্যানেল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছিলেন এবং ছাত্রলীগের হামলার মুখে সাহসী ভূমিকা রেখেছিলেন। আর নুর আলম ভূইয়া ইমন গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন।
ছাত্রদলের নতুন কমিটি নিয়ে নেতাকর্মীরা জানান, নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে ত্যাগী এবং সাংগঠনিকভাবে দক্ষ নেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। পাশাপাশি ছাত্রসমাজের কাছে গ্রহণযোগ্যতা ও নতুন প্রজন্মের ভাবনা বোঝার সক্ষমতাকেও গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
এদিকে ছাত্রদলের নতুন কমিটির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করতে রাজি হননি বিএনপির সিনিয়র নেতারা। তাদের মতে, ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক হিসেবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানই নতুন নেতৃত্বের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।