
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান ও জরিমানার সংবাদ প্রকাশের জেরে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আব্দুল বারী দুলালের ওপর প্রকাশ্যে হামলার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার গজঘণ্টা ইউনিয়নের উমর বাজারে এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা হত্যার উদ্দেশ্যে সাংবাদিক আব্দুল বারীর মাথায় আঘাত করেন। এতে গুরুতর আহত হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। আব্দুল বারী দুলাল দৈনিক লাখোকণ্ঠ ও দৈনিক প্রতিদিনের বার্তার গঙ্গাচড়া প্রতিনিধি এবং গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি।
ঘটনার সূত্রপাত, গত ৩০ সেপ্টেম্বর বুধবার ওই দিন গজঘণ্টা ইউনিয়নের উমর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলা কৃষি জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি ও বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চালান গঙ্গাচড়া
এরপর থেকেই সাংবাদিক আব্দুল বারীকে মৌখিকভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ। এরই ধারাবাহিকতায় ২ অক্টোবর শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উমর বাজারে তাকে একা পেয়ে পথরোধ করে হামলা চালানো হয়। হামলার সময় কয়েকজন তাকে গলা চেপে ধরে ও পেছন থেকে হাত আটকে রাখেন। এ সময় পেছন থেকে আরেকজন কাঠ কাটার কুড়াল দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন। এতে মাথা ফেটে রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন সাংবাদিক দুলাল। এরপরও হামলাকারীরা তাকে বিভিন্নভাবে মারধর করেন। তার বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া বড় ছেলের সেমিস্টার ফি ও থাকা-খাওয়ার আনুষঙ্গিক খরচ বিকাশের মাধ্যমে পাঠানোর জন্য সঙ্গে করে নেওয়া নগদ ৩৫ হাজার টাকা এবং শার্টের বাম পকেটে থাকা Oppo A57 মডেলের মোবাইল ফোন, যার মূল্য ১৯ হাজার ৯৯৯ টাকা, নিয়ে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গঙ্গাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, উপজেলার গজঘণ্টা ইউনিয়নের উমর গ্রামের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চিহ্নিত দুজনসহ ৭-৮ জন এ হামলায় জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ।
সাংবাদিকের ওপর এ হামলার ঘটনায় রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন (আরপিইউজে), গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রেসক্লাব, গঙ্গাচড়া প্রেসক্লাব, রংপুর প্রেসক্লাব, রংপুর সদর উপজেলা প্রেসক্লাব, মিঠাপুকুর প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে। একই সঙ্গে হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।
হামলার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে গঙ্গাচড়ায় কর্মরত সাংবাদিকরা হাসপাতালে ছুটে যান। পরে গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সবুর, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ গঙ্গাচড়া উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ এবং সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজীও আহত সাংবাদিককে দেখতে হাসপাতালে যান।
গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল আলীম প্রামাণিক ও সাধারন সম্পাদক কমল কান্ত রায় বলেন, “সত্য সংবাদ প্রকাশের কারণে একজন সাংবাদিককে যদি এভাবে হামলার শিকার হতে হয় এবং হামলাকারীরা শাস্তি না পায়, তাহলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে। আমরা দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।”
আরপিইউজে সভাপতি সালেকুজ্জামান সালেক ও সাধারণ সম্পাদক, যমুনা টিভির ব্যুরো চিফ সরকার মাজহারুল মান্নান বলেন, “সাংবাদিক দুলালের ওপর এ হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতার কণ্ঠ রোধের চেষ্টা। শুধু একজন সাংবাদিকের ওপর নয়, এ হামলা গোটা সাংবাদিক সমাজের ওপর আঘাত। আমরা দায়ীদের অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানাই। পাশাপাশি অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ চাই।
এ ঘটনায় সাংবাদিক মহলে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সাংবাদিকরা বলছেন, সংবাদ প্রকাশের কারণে কোনো সাংবাদিককে হামলার শিকার হতে হলে তা স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার জন্য গুরুতর হুমকি। অবৈধ বালু উত্তোলনের মতো জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পর হামলার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।