
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
রাশিয়ার ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করার সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা এগিয়ে নিতে মস্কোকে আলোচনার টেবিলে রাখা জরুরি। একই সঙ্গে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির বিরুদ্ধে যুদ্ধের অবসান না চাওয়ার অভিযোগও তুলেছেন তিনি।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প তার অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। তার মতে, এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়, যা অপ্রয়োজনীয়ভাবে রাশিয়াকে শান্তি আলোচনার বাইরে ঠেলে দিতে পারে। এর আগে শুক্রবার গভীর রাতে এক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার কিছু অংশ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখেন তিনি।
জ্বালানির দাম কমানোর লক্ষ্যেও রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানির ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করেছেন ট্রাম্প। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে রাশিয়ার বিপুল পরিমাণ ডিজেল সরবরাহের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে এ সিদ্ধান্তে ইউক্রেন ও দেশটির মিত্ররা বিস্ময় প্রকাশ করেছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করছে। এ ছাড়া জিম্মিদের নিয়ে চলমান আলোচনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তবে নির্বাহী আদেশের পাশাপাশি একটি নথিতে স্বাক্ষরের প্রসঙ্গ তুললেও সেটির বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
এদিকে, রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, তেহরানকে সহায়তা করার ক্ষেত্রে মস্কোর ভূমিকা খুবই সীমিত। অন্যদিকে, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টিকে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে হামলা চালানোর অভিযোগও তুলেছেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, এসব হামলার কারণে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্ববাজারে ডিজেলের সরবরাহ ও বাজারব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তবে এ বিষয়ে ইউক্রেনের পক্ষের বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
জেলেনস্কির সমালোচনা করে ট্রাম্প আরও বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলোর বিপুল আর্থিক সহায়তা এবং সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সহায়তা পাওয়ার পরও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট যুদ্ধ বন্ধ করতে আগ্রহী নন। যদিও ট্রাম্পের এসব অভিযোগের পক্ষে প্রতিবেদনে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো প্রমাণ তুলে ধরা হয়নি। এদিকে, আসন্ন মার্কিন নির্বাচনের আগে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানির সরবরাহ বাড়ানো ও মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়টি রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।