
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
রামিসা হত্যার ঘটনায় সোহেল ও তার স্ত্রীকে মৃত্যুদণ্ড দিল আদালত
আমি খণ্ডিত লাশের বাবা হতে চাইনি, আমি তো একজন গর্বিত পিতা হতে চেয়েছিলাম! কন্যা হারিয়ে বুকভাঙা কান্না আর সমাজ ব্যবস্থার প্রতি এক রাস ক্ষোভ নিয়ে এভাবেই নিজের আকুতি প্রকাশ করেছিলেন নিহত রামিসার বাবা। এক বুক স্বপ্ন নিয়ে বেড়ে ওঠা নিষ্পাপ সন্তানের এমন নির্মম পরিণতি কোনো বাবার পক্ষেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। নিজের বুকের মাণিককে অমানুষিকভাবে হারিয়ে একজন পিতার এই অসহায় আর্তনাদ পুরো দেশের বিবেককে নাড়া দিয়েছিল। অবশেষে আজ সেই বিচারহীনতার সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে এক যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক রায় এলো আদালতের পক্ষ থেকে।
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে ৮ বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর
মামলার তদন্ত ও সাক্ষ্যে প্রমাণিত হয়, গত ১৯ মে প্রতিবেশী রিকশা মেকানিক সোহেল রানা শিশু রামিসাকে ফুসলিয়ে নিজের ঘরে নিয়ে ধর্ষণের পর গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যা করে। এই ঘটনার সময় তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার আলামত ধ্বংস করতে এবং লাশ খণ্ড-বিখণ্ড করে গুম করার চেষ্টায় স্বামীকে সরাসরি সহযোগিতা করেছিলেন। আদালত স্পষ্ট করে বলেছেন, শিশুর ওপর এমন নির্মম ও বর্বরতা কোনোভাবেই ক্ষমাযোগ্য নয় এবং সমাজে অপরাধীদের প্রতি কঠোর বার্তা দিতেই এই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।
এই রায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিচারিক ইতিহাসে যুক্ত হতে যাচ্ছে সম্পূর্ণ নতুন এবং নজিরবিহীন এক অধ্যায়। স্বাধীন বাংলাদেশের ৫৪ বছরের ইতিহাসে নিম্ন আদালতে বিভিন্ন সময়ে শতাধিক নারীর ফাঁসির আদেশ হলেও, উচ্চ আদালতের আইনি প্রক্রিয়ায় দণ্ড হ্রাস পাওয়ায় এখন পর্যন্ত কোনো দেশীয় নারী আসামির ফাঁসি বাস্তবে কার্যকর হয়নি। এমনকি দেশের একমাত্র নারী কারাগার কাশিমপুরেও আজ অবধি কোনো ফাঁসির মঞ্চ তৈরি করার প্রয়োজন পড়েনি। ফলে, আজ মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হওয়া স্বপ্নার এই রায় যদি শেষ পর্যন্ত উচ্চ আদালতে বহাল থাকে এবং কার্যকর হয়, তবে তা হবে স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো বাংলাদেশি নারীর ফাঁসি কার্যকর হওয়ার প্রথম ও অবিস্মরণীয় ঘটনা।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এত অল্প সময়ে কোনো স্পর্শকাতর হত্যা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ করে রায় দেওয়ার ঘটনা অতীতে দেখা যায়নি। রামিসার বাবা শুরু থেকেই বলেছিলেন, এই বিচার দেশের ইতিহাসে একটি দৃষ্টান্তমূলক উদাহরণ হয়ে থাকবে। আজ সেই সর্বোচ্চ শাস্তির আদেশে ভুক্তভোগী পরিবারটি দীর্ঘশ্বাসের মাঝেও কিছুটা স্বস্তি খুঁজে পেয়েছে। এখন দেখার বিষয়, উচ্চ আদালতের আইনি লড়াইয়ে এই ঐতিহাসিক রায় কত দ্রুত চূড়ান্ত রূপ নেয়।
এফ/এইচ