
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে সাম্প্রতিক এক গবেষণার পর জনমনে সৃষ্টি হওয়া উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) জানিয়েছে, আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। বিষয়টি জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার সরকারি সংস্থাটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান Environment and Social Development Organization (ESDO)-এর পরিচালিত এক গবেষণায় টুথপেস্টের ৩৪টি নমুনার মধ্যে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া যায়। এরপর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে বিএসটিআই সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে গবেষণার পূর্ণাঙ্গ তথ্য, পরীক্ষাপদ্ধতি, পরীক্ষার Raw Data এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য চেয়েছে।
বিএসটিআই জানিয়েছে, মাইক্রোপ্লাস্টিক হলো ৫ মিলিমিটার বা তার চেয়ে
বিএসটিআই আরও জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ২০১৫ সালে Microbead-Free Waters Act of 2015-এর মাধ্যমে টুথপেস্টসহ Rinse-off কসমেটিকস পণ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহার নিষিদ্ধ করে। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের Regulation (EU) 2023/2055 অনুযায়ী টুথপেস্টসহ Rinse-off কসমেটিকস পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধে উৎপাদনকারীদের ১৭ অক্টোবর ২০২৭ পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের অনেক দেশেই টুথপেস্টে ইচ্ছাকৃতভাবে সংযোজিত (intentionally added) প্লাস্টিকের মাইক্রোবিড ব্যবহার নিষিদ্ধ। তবে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশের মানদণ্ড কিংবা ISO ও ASTM-এর মতো আন্তর্জাতিক মান সংস্থার প্রণীত মানে টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের কোনো নির্দিষ্ট মাত্রা বা ব্যবহার নিষিদ্ধের বিষয় উল্লেখ নেই। একইভাবে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে থাকা মাইক্রোপ্লাস্টিকের জন্য কোনো নির্দিষ্ট গ্রহণযোগ্য সীমা (Maximum Limit) বা একক পরীক্ষাপদ্ধতিও এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
সংস্থাটি জানায়, টুথপেস্টের জন্য দেশে BDS 1216:2012 Specification for Toothpaste শিরোনামে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড রয়েছে। এসআরও নং ৫০-আইন/২০১৯ এবং এসআরও নং ৫১-আইন/২০১৯ অনুযায়ী টুথপেস্ট বাজারজাতের আগে রাসায়নিক, মাইক্রোবায়োলজিক্যাল ও নিরাপত্তা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বিএসটিআইয়ের লাইসেন্স গ্রহণ বাধ্যতামূলক।
বিএসটিআইর ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডে মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহার সংক্রান্ত সরাসরি কোনো বিধি-নিষেধ না থাকলেও টুথপেস্ট উৎপাদনে ব্যবহারযোগ্য ৮১টি উপাদানের তালিকায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের উল্লেখ নেই। পাশাপাশি সনদ প্রদানের সময় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা যাচাই করা হয়। ফলে টুথপেস্ট উৎপাদনে ইচ্ছাকৃতভাবে মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহারের সুযোগ নেই।
সংস্থাটি বলছে, কোনো পরীক্ষায় প্লাস্টিকজাত কণা পাওয়া গেলেই সেটি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যবহার করেছে বা তা মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়। এ জন্য কণার ধরন, উৎস, পরিমাণ এবং সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে আরও বিস্তারিত পরীক্ষা ও মূল্যায়ন প্রয়োজন।
এদিকে বিএসটিআই সংশ্লিষ্ট উৎপাদনকারী ও আমদানিকারকদের কাছ থেকেও কাঁচামাল, পণ্যের উপাদান এবং সিনথেটিক পলিমার ব্যবহারের তথ্য সংগ্রহ করছে। একই সঙ্গে বাজার ও কারখানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে দেশি বা বিদেশি স্বীকৃত পরীক্ষাগারে পুনরায় পরীক্ষা (Independent Confirmatory Testing) করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিএসটিআই জানিয়েছে, পরীক্ষায় যদি প্রমাণিত হয় কোনো পণ্য বাংলাদেশ মান পূরণ করেনি অথবা অনুমোদনহীন উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে, তাহলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে পূর্ণাঙ্গ বৈজ্ঞানিক ও আইনগত যাচাই ছাড়া কোনো ব্র্যান্ড বা টুথপেস্টকে অনিরাপদ বা নিম্নমানের ঘোষণা করাও সঠিক হবে না।
এ ছাড়া বিশেষজ্ঞ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, পরিবেশ অধিদপ্তর, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর, দন্ত চিকিৎসক, শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং ভোক্তা প্রতিনিধিদের নিয়ে টুথপেস্টের বাংলাদেশ মান পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিএসটিআই। প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া গেলে টুথপেস্টে ইচ্ছাকৃতভাবে প্লাস্টিক মাইক্রোবিড ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, উপাদান প্রকাশের বাধ্যবাধকতা এবং পরীক্ষাপদ্ধতি সংযোজনসহ বাংলাদেশ মান হালনাগাদ করা হবে।
বিএসটিআই জনগণকে গুজব বা আতঙ্কে বিভ্রান্ত না হয়ে নিয়মিত মুখের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, টুথপেস্ট গিলে না ফেলা এবং নির্ভরযোগ্য তথ্যের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, বৈজ্ঞানিক সত্যনিষ্ঠা এবং ভোক্তার স্বার্থ রক্ষায় সংস্থাটি সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
/টি