
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
ইরানের পক্ষ থেকে পেশ করা যুদ্ধবিরতির সর্বশেষ প্রস্তাবটি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, গতকাল সোমবার উপদেষ্টাদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ট্রাম্প এই সিদ্ধান্ত নেন। তেহরানের প্রস্তাবে পারমাণবিক ইস্যু বাদ রেখে আগে যুদ্ধ থামানো এবং পারস্য উপসাগরে নৌ-চলাচল স্বাভাবিক করার কথা বলা হলেও, ওয়াশিংটন তাদের 'আগে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ' নীতিতেই অটল রয়েছে।
এই প্রত্যাখানের ফলে গত দুই মাস ধরে মধ্যপ্রাচ্যে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটার সম্ভাবনা আবারও ফিকে হয়ে পড়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েলকে সঙ্গে নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে যে সামরিক অভিযান শুরু হয়েছিল, তা এখন আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। হোয়াইট
শান্তি আলোচনার এই অচলাবস্থার প্রভাব সরাসরি আছড়ে পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। আজ মঙ্গলবার সকালেও এশীয় বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী লক্ষ্য করা গেছে। বাজার বিশ্লেষক ফাওয়াদ রাজাকজাদা জানিয়েছেন, বর্তমানে কথার চেয়ে পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালিতে তেলের বাস্তব প্রবাহ ব্যবসায়ীদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধের আগে এই পথে দৈনিক ১৪০টির মতো জাহাজ চললেও গত ২৪ ঘণ্টায় মাত্র সাতটি জাহাজ যাতায়াত করেছে, যা বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে খাদের কিনারে ঠেলে দিয়েছে।
কূটনৈতিক ফ্রন্টেও টানাপোড়েন চরম আকার ধারণ করেছে। ট্রাম্প তার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনারের পাকিস্তান সফর বাতিল করায় আলোচনার পথ অনেকটাই রুদ্ধ হয়ে গেছে। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রাশিয়া সফর করে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রকাশ্য সমর্থন লাভ করেছেন। আরাগচি অভিযোগ করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়ে এখন চোরাগোপ্তা আলোচনার পথ খুঁজছে, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে অসম্ভব।
বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসন দেশে ও বিদেশে দ্বিমুখী চাপের মুখে রয়েছে। একদিকে মার্কিন নৌ-অবরোধের কারণে পারস্য উপসাগরে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যাকে ইরান 'সমুদ্রের জলদস্যুতা' বলে আখ্যা দিয়েছে। অন্যদিকে, নিজ দেশে যুদ্ধের যৌক্তিকতা প্রমাণে হিমশিম খাচ্ছেন ট্রাম্প। ইরানের প্রস্তাবে ধাপে ধাপে সংকট সমাধানের কথা বলা হলেও, দুই দেশের অনমনীয় মনোভাব বিশ্বজুড়ে নতুন করে মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি সংকটের উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলছে।
/টিএ