
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
পাকিস্তানের আকাশ বন্ধ! এবার কোন পথে উড়বে ভারতের বিমান?
ভারত-পাকিস্তানের সম্পর্কের টানাপোড়েন নতুন কিছু নয়। দুই দেশের বিরোধের প্রভাব কখনো সীমান্তে, কখনো কূটনীতিতে, আবার কখনো সরাসরি আকাশপথেও দেখা গেছে। এবার সেই উত্তেজনার প্রভাব পড়ছে ভারতের আন্তর্জাতিক ফ্লাইটেও। পাকিস্তান বন্ধ করে দিয়েছে ভারতীয় উড়োজাহাজের জন্য নিজেদের আকাশসীমা। ফলে ইউরোপ আর পশ্চিমা দেশগুলোর পথে এখন দীর্ঘ ঘুরপথে উড়তে হচ্ছে ভারতীয় বিমানকে। তাই এবার নতুন আকাশ পথের খোঁজে ভারত।
পাকিস্তানের আকাশসীমা এড়িয়ে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় যেতে গিয়ে বাড়তি সময় ও জ্বালানি খরচ হচ্ছে ভারতের। এই চাপ কমাতেই চীনের সিনকিয়াংয়ের হোটান এলাকার আকাশপথ ব্যবহারের অনুমতি চাইছে নয়াদিল্লি। ভারতের বেসামরিক বিমান পরিবহনমন্ত্রী রাম মোহন নাইডু জানিয়েছেন,
২০২৫ সালের এপ্রিলে পেহেলগামে হামলার পর ভারতীয় উড়োজাহাজের জন্য আকাশসীমা বন্ধ করে পাকিস্তান। কয়েক দিন পর পাকিস্তানি উড়োজাহাজের জন্য নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে ভারতও। এরপর থেকেই পাকিস্তানকে এড়িয়ে দীর্ঘ ঘুরপথে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় যেতে হচ্ছে ভারতীয় বিমানগুলোকে। ফলে বেড়েছে ফ্লাইটের সময় ও জ্বালানি খরচ। সবচেয়ে বেশি চাপ পড়েছে এয়ার ইন্ডিয়ার ওপর। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা চলতে থাকলে বছরে প্রায় ৬০ কোটি ডলার পর্যন্ত ক্ষতি হতে পারে সংস্থাটির।
এই পরিস্থিতিতে বিকল্প হিসেবে সামনে এসেছে হোটান। প্রস্তাবিত রুটে ভারতীয় বিমান লাদাখের লেহ হয়ে চীনের আকাশসীমায় ঢুকে হোটানের ওপর দিয়ে পশ্চিম দিকে যাবে। এরপর মধ্য এশিয়ার আকাশসীমা পেরিয়ে ইউরোপে পৌঁছাবে। এই রুট চালু হলে সময় ও খরচ কিছুটা কমতে পারে। এয়ার ইন্ডিয়ার হিসাব অনুযায়ী, হোটান হয়ে উড়লে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১০ কোটি ৮৪ লাখ রুপি সাশ্রয় হতে পারে।
তবে চীনের অনুমতি পাওয়া সহজ হবে না। হোটান ও আশপাশের অঞ্চল চীনের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপত্তা, জরুরি অবতরণসহ বেশ কিছু বিষয় বিবেচনা করতে হবে বেইজিংকে। তারপরও সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-চীন সম্পর্ক কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় আশাবাদী নয়াদিল্লি। তবে শেষ পর্যন্ত পুরো বিষয়ই চীনের অনুমতির ওপর নির্ভরশীল।