
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’র বিস্তারিত সামনে এসেছে। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর বাইরে থেকে সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। আক্রান্ত দেশকে অবিলম্বে সহায়তা করবে বাকি দুই দেশ। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুক্তির পূর্ণাঙ্গ নথি তুরস্ক সরকার দেশটির পার্লামেন্টে জমা দিয়েছে। চলতি বছরের ৭ আগস্ট সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।
১৬টি অনুচ্ছেদে গঠিত এই চুক্তিতে তিন দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমান্ত সুরক্ষার অঙ্গীকার করা হয়েছে। চুক্তির প্রথম দুই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো সদস্যদেশের ভূখণ্ড বা সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়লে অন্য দেশগুলো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। কোনো সদস্য সামরিক আগ্রাসনের শিকার হলে বাকি দুই দেশ নিজেদের সামরিক সক্ষমতা ও অন্যান্য সম্পদের সীমার মধ্যে থেকে সহায়তা দেবে। তবে চুক্তিতে কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা অঞ্চলকে সরাসরি হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। এ ব্যবস্থার সঙ্গে ন্যাটো জোটের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা নীতির সাদৃশ্য রয়েছে।
চুক্তিতে সামরিক সহযোগিতার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়ন, যৌথ উৎপাদন, প্রযুক্তি বিনিময়, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রশিক্ষণের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যুদ্ধ ও শান্তিকাল—উভয় সময়েই তিন দেশ যৌথ সামরিক মহড়া, জনবল বিনিময় এবং বাহিনীগুলোর পারস্পরিক কার্যক্ষমতা বাড়াতে কাজ করবে। এ ছাড়া গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের জন্য নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং অস্ত্র, গোলাবারুদ, জ্বালানি, খুচরা যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা জোরদার করাও চুক্তির অন্যতম লক্ষ্য।
চুক্তি বাস্তবায়ন ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য ‘কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটি’ গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। এই কমিটিতে তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সেনাপ্রধানেরা থাকবেন। কমিটি বছরে দুবার বৈঠক করবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী উপকমিটি গঠন করতে পারবে। এ ছাড়া সৌদি আরবে সদর দপ্তরসহ একটি সচিবালয় প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে। তিন দেশের মধ্যে পালাক্রমে তিন বছরের জন্য একজন মহাসচিব নিয়োগ দেওয়া হবে, আর প্রথম মহাসচিব হবেন পাকিস্তানের একজন নাগরিক। চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে কোনো বিরোধ দেখা দিলে আলোচনা ও পরামর্শের মাধ্যমে তা নিষ্পত্তি করা হবে।
চুক্তিতে নির্দিষ্ট কোনো মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ রাখা হয়নি; এটি অনির্দিষ্টকাল কার্যকর থাকবে। তবে কার্যকর হওয়ার ১০ বছর পর যেকোনো সদস্যদেশ চুক্তি থেকে সরে যেতে পারবে। সে ক্ষেত্রে অন্য সদস্যদেশগুলোকে অন্তত তিন মাস আগে কূটনৈতিক চ্যানেলে লিখিতভাবে জানাতে হবে। চুক্তিতে গোপনীয় তথ্য ও নথি সুরক্ষা, বিদ্যমান আন্তর্জাতিক চুক্তির অধীনে সদস্যদেশগুলোর অধিকার ও দায়িত্ব অক্ষুণ্ন রাখা এবং পারস্পরিক সম্মতিতে চুক্তি সংশোধনের বিধানও রয়েছে। তুর্কি, আরবি ও ইংরেজি ভাষায় চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছে; ভাষাগত ব্যাখ্যায় কোনো পার্থক্য দেখা দিলে ইংরেজি পাঠ প্রাধান্য পাবে।
টি/