
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
কার্জন হলের সামনের ব্যস্ত সড়ক। শিক্ষার্থীদের ভিড়, গাড়ির হর্ন আর শহরের চেনা কোলাহলের মাঝেই এক পাশে পড়ে আছে ছোট্ট শিশু। ক্লান্ত শরীর, চোখে ঘুম। সামনে ফুলের ঝুড়ি। ফুল বিক্রি করতে করতে রাস্তার ধারেই চোখ বুজে ঘুমিয়ে পড়েছে আট বছরের নায়িম। পাশে খুলে রাখা ছোট্ট একজোড়া সাদা রঙের জুতো, সারাদিনের পথচলায় সেটিও যেন ক্লান্ত আজ। না চুরি যাওয়ার ভয়, না আছে সর্বস্ব হারানোর আতঙ্ক। ফুলগুলো খোলা পড়ে আছে, চাইলে কেউ এসে নিয়ে যেতে পারে, তবু সেসব নিয়ে ভাবার মতো শক্তিটুকুও যেন আর নেই তার। ক্লান্ত মন আর নিথর দেহ শুধু চাইছে একটু বিশ্রাম, আর কিছুই না। কখনো কখনো ২৪ ঘন্টাই ফুল

যে বয়সে একটি শিশুর নিরাপদ ঘরে নিশ্চিন্তে ঘুমানোর কথা, সেই বয়সে রাজধানীর ব্যস্ত সড়কের পাশে ফুলের ঝুড়িকে সামনে রেখেই ঘুমিয়ে পড়েছে নায়িম। পাশে তার ছোট্ট এক জোড়া জুতো, সামনে বিক্রি না হওয়া ফুল—আর মাঝে ক্লান্তিতে নিস্তেজ হয়ে যাওয়া একটি শিশুর শরীর। এই মুহূর্তে তার কাছে ফুল নয়, টাকা নয়, নিরাপত্তার চিন্তাও নয়—একটু ঘুমই যেন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।
নায়িমের জীবন শুরু হওয়ার কথা ছিল স্কুল, খেলা আর পরিবারের নিরাপদ আশ্রয়ে। অথচ জীবন তাকে ঠেলে দিয়েছে রাজধানীর ফুটপাতে। শহর এগিয়ে যাচ্ছে, ব্যস্ততা বাড়ছে। অথচ কার্জন হলের সামনে পড়ে থাকা এই ছোট্ট শিশুটির জীবন যেন থেমে আছে এই ফুটপাতেই। জীবনে বাচঁতে হলে কতই না সংগ্রাম করতে হয় তা হয়ত নায়িমকে না দেখলে বোঝার উপায় নেই। বাসা বাড়ি ছেড়ে কে থাকতে চায় এই ফুটপাতে? কেউই না, জীবন বাধ্য করে এভাবে বাচতে। আজ যদি নায়িমের বাবা জেলে এবং মা ছেড়ে চলে না যেত তাহলে সে ও হয়তো স্কুলে যাওয়ার সুযোগ পেত, বন্ধুদের সাথে হুরোহুরি করে সময় কাটাত আর দিন শেষে বাবা-মায়ের হাত ধরে বাসায় গিয়ে একসাথে খাওয়া দাওয়া শেষ করে তাদের নির্মল ছোয়ায় পরম শান্তিতে ঘুমের দেশে যেত। কিন্তু ভাগ্যের এই নির্মমতা তাকে বাধ্য করেছে ছয় বছর বয়স থেকে জীবনের কঠিন সংগ্রামে বেচে থাকার লড়াই লড়তে।