পাখির যেমন নেই কোন নির্দিষ্ট পথ, নেই কোন কিছুর তাড়া, শুধু দিন শেষে রাত্রি বেলা নীড়ে ফিরে ছোট্ট ছানাদের একটু খানি খাওয়াতে পারাই সবচেয়ে বড় সার্থকতা। উপরের ছবিটিকে যদি প্রতীকী হিসেবে ধরি একটি দারিদ্র্য পথ শিশুর জীবন হিসেবে তাহলে কেমন হয়?
শালিক পাখিটির একটি পা নেই তার গোত্রের অন্যান্য সবাই যখন দুটি পার দ্বারা
স্বাভাবিক জীবন যাপন করছে, তখন এই পাখিটি শিখছে কিভাবে একটি পা দিয়েই করতে হবে সকল কাজ। তবে হোঁচট খেতে হবে নিশ্চয়ই, কেননা সাধারন ভাবে যেখানে দুটি পা এর মাধ্যমে চলে তাদের দৈনন্দিন প্রক্রিয়া, সেখানে কীভাবে কেবলমাত্র একটি পা হবে এই পাখির অবলম্বন। মানিয়ে নিতে হয়েছে নিজেকে, খুব ছোট থেকেই হয়তো বুঝতে হয়েছে এক পায়ে চলার কৌশল, অন্য সব শালিক যখন দুই পায়ে ছোট ছোট লাফ দিয়ে এগিয়েছিলো কোন গাছে বসে, সে হয়তো নিজেকে মানিয়েছিল এক পা দিয়ে লাফ দিয়েই। তেমনই আমাদের সমাজে আছে এমন কিছু অবহেলিত শিশু, যাদের বাবা মা থাকলেও জীবনে চলার পথটা হয়েছে ভীষণ কঠিন। একটি শিশুর শৈশব কি, শৈশবে কেমন হয় দিন গুলো, শৈশবে বাবা মা ঠিক কতটা আদর করে, এসব কোন কিছুই পাওয়ার সৌভাগ্য হয়নি পথের এসব ফুলগুলোর। পথেই তাদের বাস পথেই তাদের জীবন যাত্রা , কেউ হয়তো ফুল বিক্রি করছে , কেউ করছে ভিক্ষা বৃত্তি, কেউবা আবার গাড়ির কাঁচ মুছে চাচ্ছে সামান্য অনুগ্রহ। অন্য একটি সাধারন শিশু যখন দিন পার করছে নতুন কিছু শিখে, এই পথের ফুল গুলো তখন ভাবছে কীভাবে যোগার হবে আজকের দিনের খাবার । কীভাবে কাটবে আগামিকালের দিনটি। পাখিটিও যেমন অসামর্থ্যতা থেকে শিখেছে জীবন পার করে নেয়ার কৌশল , বয়স খুব কম হলেও এই শিশুগুলো বুঝেছে যন্ত্রণার জীবন ঠিক কেমন হয়!
সকলের একটু অনুগ্রহ , আর হয়তো একটু খানি পরিকল্পনাই পারে পথের এই ফুলগুলোকে সুন্দর একটি জীবন দিতে ।