
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
প্রথমার্ধজুড়ে ছিল সতর্ক ও রক্ষণাত্মক ফুটবল। দুই দলই আক্রমণের চেয়ে মাঝমাঠের লড়াইয়ে বেশি মনোযোগ দেয়, ফলে গোলের দেখা মেলেনি। তবে বিরতির পরই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ৫৫তম মিনিটে দুর্দান্ত এক কাউন্টার অ্যাটাক থেকে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। এরপর রক্ষণ শক্ত করে সেই লিড ধরে রাখার পরিকল্পনা ছিল টমাস টুখেলের দলের। কিন্তু শেষ মুহূর্তে লিওনেল মেসির জাদুকরী দুই অ্যাসিস্টে ম্যাচ ঘুরিয়ে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
বাংলাদেশ সময় বুধবার রাতে আটলান্টা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনাল ছিল শুরু থেকেই উত্তেজনায় ঠাসা। মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি গ্যালারির আবহও ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রথমার্ধে
গোল হজমের পরই আক্রমণের তীব্রতা বাড়ায় লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। নিকোলাস গনসালেসের জোরালো হেড অসাধারণ দক্ষতায় রুখে দেন গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড। এরপর আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্তারের একটি হেড পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ইংল্যান্ড ধীরে ধীরে নিজেদের অর্ধেই আটকে পড়ে। ব্যবধান ধরে রাখতে টুখেল চারজন সেন্টার-ব্যাক নামিয়ে রক্ষণ আরও শক্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু আর্জেন্টিনার একের পর এক আক্রমণের ঢেউয়ে সেই কৌশল শেষ পর্যন্ত ভেঙে পড়ে।
ম্যাচের ৮৫তম মিনিটে লিওনেল মেসির নিখুঁত পাস থেকে দুর্দান্ত এক বজ্রগতির শটে সমতা ফেরান এঞ্জো ফার্নান্দেজ। সমতায় ফেরার পরও থামেনি আর্জেন্টিনা। যোগ করা সময়ে আবারও মেসির পায়ের জাদু দেখা যায়। ডান প্রান্তে বল পেয়ে ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে নিজের দুর্বল পায়ে নিখুঁত ক্রস তোলেন তিনি। সেই বল বক্সের মাঝখানে ফাঁকায় থাকা লাউতারো মার্তিনেজ হেডে জালে জড়িয়ে আর্জেন্টিনাকে এনে দেন অবিশ্বাস্য ২-১ গোলের জয়। শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার যে মানসিকতা, সেটাই আবারও প্রমাণ করল আলবিসেলেস্তেরা।
এই বিশ্বকাপে এটি আর্জেন্টিনার তৃতীয় নাটকীয় প্রত্যাবর্তন। শেষ ষোলোতে দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও জয়, কোয়ার্টার ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে সাফল্য এবং এবার সেমিফাইনালে শেষ মুহূর্তের প্রত্যাবর্তন—সব মিলিয়ে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন আরও উজ্জ্বল করেছে স্কালোনির দল। আগামী রোববার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ স্পেন। গত বছর দুই দলের বহুল প্রতীক্ষিত ফিনালিসিমা অনুষ্ঠিত না হলেও এবার বিশ্বকাপের ফাইনালেই মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার দুই পরাশক্তি। টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের ইতিহাস গড়ার সুযোগ এখন মেসিদের সামনে।
/টি