
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি গ্রামে রাশিয়ার ভয়াবহ হামলায় অন্তত ৩৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও ৫০ জনের বেশি মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) জার্মানির রাজধানী বার্লিন সফরকালে তিনি এ হামলাকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অন্যতম ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কোমিশুভাখা গ্রামের একটি সাবেক স্কুল ভবনে হামলা চালানো হয়। ভবনটি প্রতি সোমবার মানবিক সহায়তা বিতরণের কাজে ব্যবহৃত হতো। এ ঘটনায় পাঁচজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে এবং উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
জেলেনস্কির অভিযোগ, সোমবার ও মঙ্গলবার ইউক্রেনজুড়ে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। এর মধ্যে খারকিভ শহরের একটি হাসপাতালেও হামলায় কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন। এ ছাড়া দেশের অন্যান্য এলাকায় হামলায় আরও চারজন নিহত হয়েছেন। ইউক্রেনে জাতিসংঘের মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ মিশন কোমিশুভাখার হামলার নিন্দা জানিয়েছে। মিশনটির প্রধান ড্যানিয়েল বেল বলেন, রুশ বাহিনী হয়তো জানত যে ওই গ্রামে মানবিক সহায়তা বিতরণ করা হচ্ছিল, অথবা পরিস্থিতি জানার জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম পদক্ষেপও নেয়নি।
এদিকে আগামী ১০ ও ১১ নভেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে ইউক্রেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারির পর তিন দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে এটিই প্রথম এমন বৈঠক। জেলেনস্কি আশা প্রকাশ করেছেন, এ আলোচনা রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তাঁর সরাসরি বৈঠকের পথ তৈরি করবে। তবে জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস বলেছেন, যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়ার আন্তরিক আলোচনার কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না। তাঁর মতে, শান্তি আলোচনায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে অবশ্যই অংশ নিতে হবে।
অন্যদিকে, কয়েক দিনের বিরল যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার পর নতুন করে রুশ হামলায় শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। জেলেনস্কি জানিয়েছেন, কিয়েভ রাশিয়াকে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো ও এর পরিধি বিস্তারের প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু এর জবাবে নতুন হামলা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এদিকে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় ধারাবাহিক হামলায় আসন্ন শীত নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। রাজধানী কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানিয়েছেন, শহরে জ্বালানি ও অন্যান্য সরবরাহের পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন।
এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে বুধবার ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ও ন্যাটো কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে মার্কিন আলোচকদের। এতে ইউক্রেন, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, ন্যাটো ও বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। অন্যদিকে ইউক্রেনের সমর্থনে চলতি মাসে পোল্যান্ডে সামরিক মহড়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স। এতে ইউরোপের ১০টি দেশের প্রায় ২ হাজার ৮০০ সেনা অংশ নেবেন। সব মিলিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে সংঘাত বাড়ার পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে। তবে আবুধাবির বৈঠক যুদ্ধবিরতি কিংবা স্থায়ী শান্তিচুক্তির পথে কতটা অগ্রগতি আনতে পারে, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।
টি/