
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
নামাজ আদায়ের সময় টুপি বা পাগড়ি দিয়ে মাথা ঢেকে রাখা ইসলামি সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও সাম্প্রতিক সময়ে অনেককে ইচ্ছাকৃতভাবে খালি মাথায় নামাজ পড়তে দেখা যায়। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বসবাসকারী কিংবা হজ থেকে ফিরে আসা অনেকের মাঝে এই প্রবণতা স্পষ্ট, যা সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন ও সংশয়ের সৃষ্টি করেছে। এ বিষয়ে প্রখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ ডা. জাকির নায়েক জানান, মহানবী (সা.) এবং তাঁর সাহাবিদের মাথা সর্বদাই আবৃত থাকত। নবীজি (সা.) টুপি, পাগড়ি কিংবা যুদ্ধক্ষেত্রের শিরস্ত্রাণ পরিধান করতেন এবং চার মাজহাবের ইমামগণও একমত যে, কোনো গ্রহণযোগ্য কারণ ছাড়া ইচ্ছাকৃতভাবে খালি মাথায় নামাজ পড়া মাকরুহ বা অপছন্দনীয়।
পূর্বে উপমহাদেশসহ বিশ্বের প্রায় শতভাগ
রাসুলুল্লাহ (সা.) ও তাঁর প্রিয় সাহাবিগণ যে সর্বদা মাথা ঢেকে রাখতেন, তা একাধিক সহিহ হাদিস দ্বারা সুপ্রমাণিত। হজরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, মক্কা বিজয়ের দিনে আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর মাথার পোশাকের বর্ণনা এসেছে এভাবে—
أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلَ مَكَّةَ يَوْمَ الْفَتْحِ وَعَلَيْهِ عِمَامَةٌ سَوْدَاءُ
‘নামাজে টুপি পরা নিয়ে ডা. জাকির নায়েকের বিশ্লেষণ
নামাজ আদায়ের সময় টুপি বা পাগড়ি দিয়ে মাথা ঢেকে রাখা ইসলামি সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্য থেকে ফিরে আসা অনেকের মধ্যেই খালি মাথায় নামাজ আদায়ের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মনে নানা সংশয় ও দ্বিমত তৈরি হওয়ায় এক টিভি অনুষ্ঠানে বিখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ ডা. জাকির নায়েক শরিয়তের প্রকৃত দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। তিনি জানান, রাসুলুল্লাহ (সা.) ও তার প্রিয় সাহাবিদের মাথা সর্বদাই আবৃত থাকত। চার মাজহাবের সম্মানিত ইমামগণের ঐক্যমত অনুযায়ী, টুপি বা পাগড়ি দিয়ে মাথা ঢেকে রাখা একটি প্রিয় সুন্নত ও মুস্তাহাব আমল, আর গ্রহণযোগ্য কারণ ছাড়া ইচ্ছাকৃতভাবে খালি মাথায় নামাজ পড়া মাকরুহ বা অপছন্দনীয়।
ডা. জাকির নায়েক সমাজে খালি মাথায় নামাজ পড়ার পেছনে অসম্পূর্ণ জ্ঞান ও ভ্রান্ত যুক্তিকে দায়ী করেছেন। অনেকেই বিদেশে গিয়ে জানতে পারেন যে নামাজ কবুল হওয়ার জন্য টুপি পরা ফরজ নয়; এই প্রাথমিক জ্ঞানটুকু পাওয়ার পর তারা নিজেদের জ্ঞান জাহির করতেই টুপি পরা ছেড়ে দেন, অথচ এর ফজিলত এড়িয়ে যান। অন্যদিকে, অনেকে ইহরাম অবস্থার খালি মাথার সঙ্গে সাধারণ সময়ের তুলনা করেন, যা সম্পূর্ণ ভুল। ইহরাম অবস্থায় মাথা ঢাকা নিষিদ্ধ, ঠিক যেমন ইহরামে চুল-নখ কাটা নিষিদ্ধ হলেও সাধারণ সময়ে তা সুন্নত; তাই ইহরামের বিশেষ বিধানকে সাধারণ সময়ের আমলের সঙ্গে মেলানো শরিয়তসম্মত নয়।
নবীজি (সা.) ও সাহাবিদের আমল থেকে টুপি এবং পাগড়ি পরিধানের স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়। হজরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, অَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلَ مَكَّةَ يَوْمَ الْفَتْحِ وَعَلَيْهِ عِمَامَةٌ سَوْدَاءُ অর্থাৎ ‘নবী করিম (সা.) মক্কা বিজয়ের দিন যখন মক্কায় প্রবেশ করেন, তখন তার মাথায় একটি কালো রঙের পাগড়ি শোভা পাচ্ছিল।’ (মুসলিম ৩১৪৮)। এছাড়া হজরত ওমর (রা.) বর্ণনা করেছেন যে মহানবী (সা.) সাদা রঙের টুপি পরিধান করতেন। সাহাবিদের অনুসরণের বিষয়ে সহিহ বুখারিতে এসেছে, وَكُوفِيَّةٌ: وَكَانَ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَلْبَسُ الْكُوفِيَّةَ অর্থাৎ ‘হজরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) টুপি (কুফি) দিয়ে নিজের মাথা ঢেকে রাখতেন।’ (বুখারি ৫৮০২)।
মধ্যপ্রাচ্য ও গালফ অঞ্চলের বিশিষ্ট আলেমদের আমল উল্লেখ করে ডা. জাকির নায়েক বলেন, আল্লামা আলবানি (রহ.) এবং সৌদি আরবের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি শায়খ বিন বাজ (রহ.)-সহ শীর্ষ আলেমরা সর্বদা টুপি বা রুমাল দিয়ে মাথা ঢেকে রাখতেন। কিন্তু মিসরের কিছু আলেমের শিথিল ফতোয়া কিংবা ভুল ব্যাখ্যার কারণে সাধারণ মানুষ আজ এই সুন্দর আমল থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ইসলামের শুরু থেকে সালাফদের যুগপরম্পরায় মাথা ঢেকে রাখার এই রীতি অব্যাহতভাবে চলে আসছে।
পরিশেষে বলা যায়, নামাজ হলো আল্লাহর দরবারে বান্দার সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ হাজিরা ও ইবাদত, যেখানে পোশাকে শালীনতা ও সৌন্দর্য বজায় রাখা ইমানের দাবি। টুপি পরা ফরজ না হলেও অবহেলা করে খালি মাথায় নামাজে দাঁড়ানো মহানবীর প্রিয় সুন্নত ও সালাফদের ধারার পরিপন্থি। তাই কোনো ভ্রান্ত যুক্তি বা বিভ্রান্তিতে না পড়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ভালোবাসায় টুপি বা পাগড়ি দিয়ে মাথা ঢেকে নামাজ আদায় করাই একজন সচেতন মুমিনের পরিচয়, যা একই সঙ্গে সওয়াব অর্জন ও রাসুল (সা.)-এর সুন্নত জিন্দা করার মহান সুযোগ তৈরি করে।
/টি