
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
ইসরাইলে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস দিয়েছে জনমত জরিপ। তবে কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন পাবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ফলে নির্বাচনের পর সরকার গঠন নিয়ে দীর্ঘ রাজনৈতিক দর-কষাকষির আশঙ্কা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জেরুজালেমে ভোট দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ ও তার স্ত্রী মিখাল। নির্বাচনে অংশ নিতে বিদেশ থেকে প্রায় ৭০ হাজার ইসরাইলি দেশে ফিরেছেন। এ ছাড়া এবার প্রায় পাঁচ লাখ ভোটার প্রথমবারের মতো ভোট দিচ্ছেন।
নেতানিয়াহুবিরোধী জোটের প্রধান মুখ হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন নতুন গঠিত ইয়াশার পার্টির নেতা আইজেনকট। এই জোটে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট, আভিগদর লিবারম্যান ও ইয়ার গোলানের মতো নেতারা। আদর্শগত পার্থক্য থাকলেও নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর বিষয়ে তারা একমত। অন্যদিকে, নেতানিয়াহুকে সরকার গঠন করতে হলে উগ্র ডানপন্থী ও অতি-রক্ষণশীল ইহুদি দলগুলোর সমর্থন প্রয়োজন হতে পারে। ইসরাইলের আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বভিত্তিক নির্বাচনি ব্যবস্থায় সাধারণত একাধিক দলের সমন্বয়ে জোট সরকার গঠিত হয়। এবারও কোনো দল এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারলে সরকার গঠন নিয়ে জটিল সমীকরণ তৈরি হতে পারে।
নির্বাচনে নিরাপত্তা, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে চালানো হামলা, দুর্নীতির অভিযোগ এবং সামরিক নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। ওই হামলায় ইসরাইলে প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়। বিরোধীরা নিরাপত্তাব্যবস্থার ব্যর্থতার জন্য নেতানিয়াহুকে দায়ী করে স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছেন। নেতানিয়াহু এসব সমালোচনার মুখে নিজেকে দেশের নিরাপত্তার জন্য উপযুক্ত নেতা হিসেবে তুলে ধরছেন। অন্যদিকে, গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীর নিয়ে আইজেনকটের অবস্থানেও নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। পাশাপাশি অতি-রক্ষণশীল ইহুদি পুরুষদের বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ এবং বিচারব্যবস্থার সংস্কার নিয়েও নির্বাচনে আলোচনা চলছে।
মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ১০টায় ইসরাইলের সম্প্রচারমাধ্যমগুলো ভোট-পরবর্তী জরিপ প্রকাশ করার কথা রয়েছে। এসব জরিপ থেকে নির্বাচনের সম্ভাব্য চিত্র সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া গেলেও প্রকৃত ফলের সঙ্গে পার্থক্য থাকতে পারে। নির্বাচনের পর আরব দলগুলোর সমর্থনও সরকার গঠনের হিসাব-নিকাশে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে সম্ভাব্য জোটসঙ্গীদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকায় সমঝোতা কতটা সম্ভব হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। কোনো পক্ষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারলে সংখ্যালঘু সরকার গঠন কিংবা নতুন নির্বাচনের পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে। এর আগে ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ইসরাইলে পাঁচবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এবারও সরকার গঠন নিয়ে দীর্ঘ অচলাবস্থা তৈরি হয় কি না, সেদিকে নজর রয়েছে দেশটির রাজনৈতিক মহলের।
টি/