
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় লাফ, বিপাকে বাংলাদেশ
হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘর্ষের জেরে টালমাটাল হয়ে পড়েছে বিশ্ব বাজার। যেখানে ধারণা করা হচ্ছিল সংঘাত দ্রুতই প্রশমিত হবে, সেখানে ডোনাল্ড ট্রাম্পের হার্ডলাইন অবস্থান এবং নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় পরিস্থিতি আবারও অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে। এই সংঘাতের ফলে দুই দেশের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে।
বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্টক্রুড তেলের দাম এক পর্যায়ে ৭.৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে ১০৩.৭০ ডলারে পৌঁছায়। যদিও শুক্রবার এশিয়ার বাজার খোলার পর দাম কিছুটা কমে ১০১.১২ ডলারে নেমে আসে, তবে সরবরাহ নিয়ে আতঙ্ক কাটছে না। বিশ্লেষকরা বলছেন, ফেব্রুয়ারি তে যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় তেলের দাম ইতিমধ্যে ৪০শতাংশ বেড়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রালকমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তাদের তিনটি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার লক্ষ্য করে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালালে তারা পাল্টা জবাব দেয়। বিপরীতে ইরানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে তাদের তেলবাহী জাহাজ ও কেশম দ্বীপের বেসামরিক এলাকায় হামলা চালিয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি থেকে প্রণালিটি স্থবির হয়ে থাকায় প্রতিদিন প্রায় ১কোটি ৪৫লাখ ব্যারেল তেলের ঘাটতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই উত্তেজনার আঁচ লেগেছে বিশ্ব শেয়ার বাজারেও। শুক্রবার জাপানের নিক্কেই, দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি এবং হংকংয়ের হ্যাংসেং সূচক ১ শতাংশের বেশি পড়ে গেছে। মার্কিন ওয়াল স্ট্রিটেও এসঅ্যান্ডপি ৫০০সূচক ০.৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। সরবরাহ ব্যবস্থার এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ব অর্থনীতি বড়
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের এই লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি আমদানি নির্ভর বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের অশনি সংকেত হিসেবে দেখা দিয়েছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, বিশ্ববাজারে ব্যারেল প্রতি তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় দেশের বাজারেও জ্বালানি তেলের দাম পুনর্নির্ধারণের তীব্রচাপ তৈরি হবে। তেলের দাম বাড়লে পরিবহন খরচ ও কৃষি সেচ সহ উৎপাদন ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে, যা সরাসরি প্রভাব ফেলবে সাধারণ মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর। ডলার সংকটের এই সময়ে চড়া মূল্যে তেল কিনতে গিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর বাড়তি চাপ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সব মিলিয়ে বিশ্ববাজারের এই তপ্ত পরিস্থিতি দেশের মুদ্রাস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।