
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
হৃদরোগের সঙ্গে ধূমপান, স্থূলতা ও উচ্চ কোলেস্টেরলের মতো বিষয়গুলোর সম্পর্ক সুপরিচিত। তবে এর বাইরেও কিছু দৈনন্দিন অভ্যাস রয়েছে, যেগুলোকে অনেকেই ক্ষতিকর মনে করেন না। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া কিংবা অতিরিক্ত লবণ ও চিনিযুক্ত খাবার গ্রহণের মতো অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে হৃদপিণ্ডের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং কার্ডিওভাসকুলার সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘসময় বসে থাকা এবং শারীরিক কার্যকলাপ এড়িয়ে চলা হৃদস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। দিনের বড় একটি সময় ডেস্কে বসে, গাড়িতে বা টেলিভিশনের সামনে কাটালে শরীরের ক্যালোরি খরচ কমে যায় এবং রক্তসঞ্চালনেও প্রভাব পড়ে। তাই প্রতি ৩০ থেকে ৬০ মিনিট পরপর উঠে দাঁড়ানো, কিছুক্ষণ হাঁটা বা
পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপও হৃদস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। নিয়মিত সাত ঘণ্টার কম ঘুম রক্তচাপ ও প্রদাহ বাড়ানোর পাশাপাশি রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ বাড়াতে পারে। তাই প্রতিদিন সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুমের চেষ্টা করার পাশাপাশি হাঁটা, ধ্যান, গভীর শ্বাসপ্রশ্বাস বা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর মাধ্যমে মানসিক চাপ কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।
খাদ্যাভ্যাসের ক্ষেত্রেও কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। আচার, প্যাকেটজাত খাবার, সস ও তৈরি খাবারে থাকা অতিরিক্ত লবণ শরীরে পানি ধরে রেখে রক্তচাপ বাড়াতে পারে। একইভাবে কোমল পানীয়, মিষ্টি ফলের জুস, এনার্জি ড্রিঙ্ক এবং অতিরিক্ত চিনি দেওয়া চা-কফি নিয়মিত পান করলে ওজন বৃদ্ধি ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা হৃদরোগের সঙ্গেও সম্পর্কিত। এসবের পরিবর্তে পানি, ডাবের পানি, চিনি ছাড়া ঘোল এবং কম চিনি বা চিনি ছাড়া পানীয় বেছে নেওয়া যেতে পারে।
এ ছাড়া উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল ও ডায়াবেটিস অনেক সময় কোনো স্পষ্ট লক্ষণ ছাড়াই শরীরে উপস্থিত থাকতে পারে। ফলে সুস্থ বোধ করলেও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করানো ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। হৃদস্বাস্থ্য ভালো রাখতে দীর্ঘসময় বসে থাকা এড়িয়ে চলা, পর্যাপ্ত ঘুম, পরিমিত লবণ ও চিনি গ্রহণ, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সময়মতো স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো জরুরি। এসব ছোট ছোট অভ্যাস পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদে হৃদপিণ্ডকে সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
/টি