
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
শিশু-কিশোরদের উচ্চতা দ্রুত বাড়াতে নির্দিষ্ট কিছু ফল বিশেষভাবে কার্যকর—এমন ধারণা অনেকের মধ্যেই রয়েছে। তবে চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদদের মতে, কোনো একক ফল সরাসরি উচ্চতা বাড়াতে পারে না। উচ্চতা মূলত বংশগত বৈশিষ্ট্য, বয়স, হরমোন, পর্যাপ্ত ঘুম, শারীরিক কার্যক্রম এবং সুষম খাদ্যাভ্যাসের ওপর নির্ভর করে। তবে বিভিন্ন ফলে থাকা ভিটামিন ও খনিজ হাড়ের স্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং শরীরের সুস্থ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কলা, কমলা, পেঁপে, আপেল এবং স্ট্রবেরি-ব্লুবেরির মতো বেরিজাতীয় ফল শিশু-কিশোরদের খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। কলায় থাকা পটাশিয়াম ও ভিটামিন বি৬ হাড় ও পেশির স্বাস্থ্যে ভূমিকা রাখে। কমলার ভিটামিন সি কোলাজেন তৈরিতে সহায়তা করে, যা হাড় ও তরুণাস্থির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পেঁপেতে
তবে শুধু ফল খেলেই উচ্চতা বাড়বে—এমন ধারণা ঠিক নয়। শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও হাড়ের বিকাশের জন্য পর্যাপ্ত প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি, জিংক, ম্যাগনেশিয়াম ও ভিটামিন কে প্রয়োজন। তাই একটি বা কয়েকটি ফলের ওপর নির্ভর না করে মাছ, মাংস, ডিম, দুধ ও দুধজাত খাবার, শাকসবজি, শস্য এবং বিভিন্ন ধরনের ফলসহ সুষম খাদ্য গ্রহণ করা জরুরি।
স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য খাবারের পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত খেলাধুলা ও ব্যায়াম এবং প্রয়োজনীয় সময় রোদে থাকা গুরুত্বপূর্ণ। এতে শরীরে ভিটামিন ডি তৈরিতে সহায়তা করে এবং হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য উপকার পাওয়া যায়। কোনো শিশু বা কিশোরের বৃদ্ধি বয়স অনুযায়ী স্বাভাবিক না হলে কিংবা পুষ্টিহীনতা বা দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াও জরুরি।
অন্যদিকে প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে ফল, খাবার, ব্যায়াম বা সাপ্লিমেন্টের মাধ্যমে উচ্চতা বাড়ানো সাধারণত সম্ভব নয়। কারণ বয়ঃসন্ধির শেষ দিকে অধিকাংশ মানুষের হাড়ের গ্রোথ প্লেট বন্ধ হয়ে যায়। তাই উচ্চতা বাড়ানোর কোনো ‘জাদুকরি ফল’ নেই। বরং শিশু-কিশোরদের সম্ভাব্য সর্বোচ্চ স্বাভাবিক উচ্চতায় পৌঁছাতে সুষম খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: বিকাম টলার ক্লিনিক
/টি