
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
হৃদ্যন্ত্রের যত্ন বলতে অনেকেই শুধু তেল-চর্বি কম খাওয়া কিংবা নিয়মিত হাঁটার কথা ভাবেন। তবে হৃদ্স্বাস্থ্য ভালো রাখতে আরও বেশ কিছু বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। দিনের বড় সময় বসে থাকা, খাবারে অতিরিক্ত লবণ ও চিনি, ধূমপান, অনিয়মিত ঘুম, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ এবং নিয়মিত রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল পরীক্ষা না করার মতো অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনও হৃদ্রোগ প্রতিরোধে খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক সক্রিয়তা, ঘুম, ওজন, রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, রক্তে শর্করা ও তামাক ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেয়।
দিনের বেশির ভাগ সময় বসে থাকাও হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। অফিসে দীর্ঘ সময় বসে কাজ করা, বাসায় ফিরে টেলিভিশন দেখা কিংবা মোবাইল ব্যবহারের কারণে অনেকের দিনের বড় একটি
খাবারের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। অতিরিক্ত লবণ রক্তচাপ বাড়াতে পারে, আর উচ্চ রক্তচাপ হৃদ্রোগ ও স্ট্রোকের গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি। শুধু রান্নায় ব্যবহৃত লবণ নয়, নুডলস, চিপস, সস, প্রক্রিয়াজাত মাংসসহ বিভিন্ন প্যাকেটজাত খাবারেও বেশি সোডিয়াম থাকতে পারে। একইভাবে অতিরিক্ত যোগ করা চিনি, কোমল পানীয় ও মিষ্টিজাতীয় খাবার কমানো দরকার। ২০২৬ সালের আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের খাদ্য নির্দেশনায় যোগ করা চিনি, পরিশোধিত শস্য ও অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার কমিয়ে বেশি পুষ্টিকর ও কম প্রক্রিয়াজাত খাবার বেছে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ধূমপান, ঘুমের অনিয়ম ও দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপও অবহেলা করা উচিত নয়। ধূমপান এবং পরোক্ষ ধূমপান হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত প্রতি রাতে ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমের লক্ষ্য রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপও রক্তচাপ বাড়াতে পারে এবং অতিরিক্ত খাওয়া, ধূমপান বা শারীরিক নিষ্ক্রিয়তার মতো অস্বাস্থ্যকর অভ্যাসকে উৎসাহিত করতে পারে। তাই নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম, শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন এবং পরিবার-বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর মতো স্বাস্থ্যকর উপায় কাজে লাগানো যেতে পারে।
হৃদ্স্বাস্থ্য রক্ষায় নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষাও গুরুত্বপূর্ণ। উচ্চ রক্তচাপ ও উচ্চ কোলেস্টেরল অনেক সময় কোনো স্পষ্ট লক্ষণ ছাড়াই থাকতে পারে। তাই বয়স ও ব্যক্তিগত ঝুঁকি অনুযায়ী রক্তচাপ, কোলেস্টেরল ও রক্তে শর্করা পরীক্ষা করা প্রয়োজন। শুধু একটি খাবার বা একটি অভ্যাস বদলালেই হৃদ্স্বাস্থ্য নিশ্চিত হয় না; বরং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তা, পর্যাপ্ত ঘুম, স্বাস্থ্যকর ওজন, তামাক থেকে দূরে থাকা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা—সবগুলো বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি।
সূত্র: হেল্থ
টি/