
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
ফ্রান্সে নতুন করে বিক্ষোভ ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় শনিবার (২৪ অক্টোবর) দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এক সপ্তাহ আগে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দেশটির বিভিন্ন শহরে কয়েক বছরের মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ নগর সহিংসতার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। খবর দ্য ডন ও রয়টার্সের।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) প্যারিসে এক সংবাদ সম্মেলনে ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহিংসতা ও লুটপাটের আহ্বান ছড়িয়ে পড়ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ ও পড়াশোনার পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ থেকে আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। পরে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের অসন্তোষ যুক্ত হয়ে আন্দোলন আরও বিস্তৃত রূপ নেয়।
এদিকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক পরিস্থিতিও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ছয় মাস পর অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর উত্তরসূরি নির্বাচিত হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন এক জনমত জরিপে কট্টর ডানপন্থি নেত্রী মেরিন লে পেনকে এগিয়ে থাকতে দেখা গেছে। সাম্প্রতিক ঘটনাবলি তার রাজনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে বলে জরিপে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তবে জনমত জরিপের ফলাফল নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল নির্ধারণ করে না।
সপ্তাহান্তে প্যারিসের দক্ষিণে অর্লেয়ঁ শহরে নিজের দল ন্যাশনাল র্যালির (আরএন) সম্মেলন আয়োজন করতে যাচ্ছেন মেরিন লে পেন। এতে হাজার হাজার সমর্থক অংশ নেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সময়ে বিরোধী বিক্ষোভকারীরাও শহরটিতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ফলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কা করছে স্থানীয় প্রশাসন। এ পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, শুক্রবার মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। বৈঠক শেষে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিরা জানান, সরকার তাদের দাবির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব না দেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া উচিত। ফলে শনিবারের বিক্ষোভ ঘিরে ফ্রান্সে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। নতুন করে সহিংসতা এড়াতে সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
টি/