
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
রাশিয়ার বন্দর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ৪০ হাজার টন ডিজেল নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে তিনটি ট্যাংকার। নতুন আমদানি চুক্তির আওতায় রাশিয়ার প্রিমোরস্ক বন্দর থেকে ছেড়ে যাওয়া জাহাজগুলো উত্তর আমেরিকার দিকে যাচ্ছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক এ তথ্য জানান। ২০২৩ সালের পর এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রে রাশিয়ার ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে নোভাক বলেন, রাশিয়ান ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের (আরডিআইএফ) উল্লেখযোগ্য সহযোগিতায় জ্বালানিবাহী প্রথম তিনটি ট্যাংকার আটলান্টিক মহাসাগরের পূর্ব উপকূলের দিকে যাত্রা করেছে। সামুদ্রিক গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ট্যাংকারটি নিউইয়র্কের উদ্দেশে যাত্রার সংকেত দিয়েছে এবং আগামী ৭ নভেম্বর সেখানে পৌঁছানোর কথা। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভও প্রথম চালান পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপের পর ডিজেল আমদানি চুক্তির ঘোষণা দেন। যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির উচ্চমূল্য নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা এবং মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে এই চুক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নোভাক জানিয়েছেন, অক্টোবর মাসে রাশিয়ার কোম্পানিগুলো যুক্তরাষ্ট্রে ৫ লাখ টন ডিজেল সরবরাহ করতে পারে। এদিকে ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী, প্রথম চালানের পর পর্যায়ক্রমে আরও ডিজেল পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
রাশিয়ার সঙ্গে এই চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে এবং ইউক্রেনে সমালোচনা দেখা দিয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি চুক্তিটিকে ‘শক্তিশালী অংশীদারদের দুর্বল সিদ্ধান্ত’ বলে অভিহিত করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় দলের নেতারাও ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। এর আগে রাশিয়ার জ্বালানি কেনা শীর্ষ পাঁচ দেশের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের বিধান রেখে নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজে সই করেছিলেন ট্রাম্প। তবে পরে এসব পদক্ষেপ স্থগিত রাখা হয়।
বার্তা সংস্থা এপির তথ্য অনুযায়ী, প্রথম চালানের ৪০ হাজার টন ডিজেল প্রায় ৩ লাখ ব্যারেলের সমান। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল ডিজেল ব্যবহৃত হয়। সেই হিসাবে এই চালান দেশটির এক দিনের মোট ব্যবহারের প্রায় ৭ শতাংশের সমান। ট্রাম্প এর আগে বলেছিলেন, প্রথম চালানের পর নভেম্বরে আরও ৫ লাখ টন এবং পরবর্তী সময়ে ১০ লাখ টন ডিজেল সরবরাহ করা হবে। রাশিয়ার এই জ্বালানি সরবরাহ দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ও ওয়াশিংটনের মস্কো নীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সূত্র: রয়টার্স, এপি ও হিন্দুস্তান টাইমস।
টি/