
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে শিক্ষার্থী ও পুলিশের সংঘর্ষে অন্তত ১৮০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহতদের মধ্যে ১১৮ জনের বেশি পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মী এবং প্রায় ৬০ জন বিক্ষোভকারী রয়েছেন বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ। সংঘর্ষের পরও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুব ও শিক্ষার্থীদের সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ভোরে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যেও জন্তর মন্তরে বিক্ষোভকারীরা সমাবেশ করে স্লোগান দেন।
সোমবার (২০ জুলাই) সংসদ ভবনের উদ্দেশ্যে পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে মধ্য দিল্লিতে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। আহতদের নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে অধিকাংশকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ৭০ জন আন্দোলনকারীকে আটক করা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বার্তায় সিজেপি জানিয়েছে, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপ পুলিশের কঠোর আচরণের জন্য সমর্থকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আন্দোলনকারীদের আরও ভালোভাবে সুরক্ষা দিতে না পারার জন্য তিনি দুঃখিত। বিশেষ করে নারী বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলার ঘটনায় তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
মে মাসে অনুষ্ঠিত মেডিকেলে ভর্তির জাতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ২০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী এতে ক্ষতিগ্রস্ত হন এবং পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নিতে বাধ্য হন। আন্দোলনকারীদের দাবি, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় কয়েকজন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন, যা শিক্ষাব্যবস্থার গভীর সংকটের প্রতিফলন। এ ঘটনার দায় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুকের মুক্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ক্ষতিপূরণের দাবি জানানো হচ্ছে।
সিজেপির ডাকে দিল্লি ও আশপাশের এলাকা থেকে হাজারো মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। বিরোধী দলের নেতারা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবশালীরাও আন্দোলনে সংহতি জানান। তবে ক্ষমতাসীন দল সহিংসতাকে পরিকল্পিত বলে দাবি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, তরুণদের মধ্যে প্রশ্নফাঁস, বেকারত্ব ও জবাবদিহিতার অভাব নিয়ে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তা মোদি সরকারের জন্য ভবিষ্যতেও বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকতে পারে।
/টি