
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
গর্ভবতী মায়েদের পুষ্টি ও প্রসবপূর্ব সেবা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে সোশ্যাল মার্কেটিং কোম্পানি (এসএমসি) আয়োজিত দেশব্যাপী দুই দিনব্যাপী ‘গর্ভকালীন পুষ্টি ক্যাম্পেইন’ কর্মসূচির উদ্বোধন হয়েছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নের শিকদার বাড়ির প্রাঙ্গণে গর্ভবতী মায়েদের নিয়ে সচেতনতামূলক আলোচনা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এসএমসি ও এসএমসি এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের (এসএমসি ইএল) চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ। অনুষ্ঠানে এসএমসি ও এসএমসি ইএলের পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক সিদ্দিকুর রহমান চৌধুরী ও ডা. জহির উদ্দিন আহমেদ, এসএমসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও তছলিম উদ্দিন খান এবং এসএমসি ইএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েফ নাসির উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া এসএমসির প্রধান কার্যালয়,
অনুষ্ঠানে অতিথিরা গর্ভবতী মায়েদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের মধ্যে ১৫টি ভিটামিন ও মিনারেল সমৃদ্ধ এসএমসির মাল্টিপল মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট সাপ্লিমেন্ট ‘ফুলকেয়ার’ বিতরণ করেন। এসএমসি জানিয়েছে, কর্মসূচিকে সফল করতে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ২২ হাজার ব্লু-স্টার, গ্রিন স্টার ও গোল্ড স্টার সেবাদানকারী, ফিল্ড টিম এবং নেটওয়ার্কের বাইরের সেবাদানকারীরা গর্ভবতী মায়েদের গর্ভকালীন সেবা, পুষ্টির প্রয়োজনীয়তা এবং নিয়মিত প্রসবপূর্ব সেবা গ্রহণের বিষয়ে পরামর্শ দেবেন। পাশাপাশি তারা ‘ফুলকেয়ার’ বিতরণ করবেন। এ ছাড়া দেশের ১৬১টি উপজেলায় এসএমসির কমিউনিটি মোবিলাইজেশন কর্মসূচির আওতায় গর্ভকালীন সেবা ও নিয়মিত প্রসবপূর্ব সেবা গ্রহণে সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসএমসির চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ বলেন, একটি সুস্থ প্রজন্ম গড়ে ওঠার ভিত্তি তৈরি হয় একজন সুস্থ মায়ের মাধ্যমে। মাতৃস্বাস্থ্য ও শিশু পুষ্টিতে বিনিয়োগ শুধু মায়ের সুস্থতা নিশ্চিত করে না, বরং ভবিষ্যতের একটি সুস্থ ও সক্ষম প্রজন্ম গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এসএমসির পরিচালক সিদ্দিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, গর্ভবতী মায়েদের প্রসবপূর্ব সেবার আওতায় আনা এবং সঠিক পুষ্টি সম্পর্কে সচেতন করাই তাদের লক্ষ্য। সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে প্রতিটি গর্ভবতী মা যেন প্রয়োজনীয় পরিচর্যা ও পুষ্টির সুযোগ পান, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেন তিনি।
ডা. জহির উদ্দিন আহমেদ বলেন, মাতৃপুষ্টির ঘাটতি মোকাবিলায় সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি গর্ভবতী মায়েদের জন্য মানসম্মত পুষ্টি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে এসব পুষ্টিপণ্য সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এসএমসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও তছলিম উদ্দিন খান বলেন, সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় চার হাজার মা মারা যান, যার বড় একটি অংশ প্রতিরোধযোগ্য। তিনি বলেন, গর্ভকালীন চারবার প্রসবপূর্ব সেবা (এএনসি) গ্রহণের হার বিগত বছরগুলোর ৪৭ শতাংশ থেকে কমে বর্তমানে ৪১ শতাংশে নেমে এসেছে। গর্ভকালীন পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রসবপূর্ব সেবার মাধ্যমে মাতৃমৃত্যু অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
এসএমসি ইএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েফ নাসির বলেন, তাদের শক্তিশালী বিতরণ নেটওয়ার্ক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সহযোগিতায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ফার্মেসি ও সেবাকেন্দ্রে পুষ্টিপণ্য পৌঁছে দিতে কাজ করা হচ্ছে।
এসএমসি জানায়, পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রতিষ্ঠানটি দেশের মানুষের স্বাস্থ্য ও পুষ্টির উন্নয়নে কাজ করছে। গর্ভকালীন পরিচর্যার সঙ্গে সঠিক পুষ্টির সমন্বয়, নিয়মিত প্রসবপূর্ব সেবা, স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবীদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতা তৈরির কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
এমআর//