
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। জিপিএ-৫ পাওয়া এক শিক্ষার্থীর ফলাফলে সন্দেহ পোষণ করে তার অজান্তেই খাতা পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেছিল এক বন্ধু। পুনঃনিরীক্ষণের পর দেখা গেছে, ওই শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ তো দূরের কথা, পরীক্ষায় ফেল করেছে! পুরো ঘটনা ও নম্বর পরিবর্তনের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বুধবার (২৮ অক্টোবর) আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বুধবার বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় এক্সামিনারদের খাতা দেখার অনিয়মের অভিযোগ তুলে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এসব তথ্য জানান। তবে এ ঘটনা কোন বোর্ডে এবং কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ঘটিয়েছেন, তা জানাননি শিক্ষামন্ত্রী। মামলার তদন্ত শেষে বিষয়টি প্রকাশ করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
এবার ১৯ লাখ শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তাদের মধ্যে ১২ লাখ পাস করেছে। ‘আমি এবার আইনত বললাম, যাদের যাদের প্রশ্ন আছে, তারা খাতা রি-এক্সামিন করতে পারে। ওরে আল্লাহ, রে আল্লাহ! ১২ লাখ পাস করেছে, ১৩ লাখ খাতা দেখার জন্য দরখাস্ত পড়েছে! বাকি ৬ লাখ করেনি। তা নাহলে ১৯ লাখ আবার দেখতে হতো!’
তিনি বলেন, ‘এই যে আমি ১২ লাখ খাতা চেক করলাম, তার মধ্যে ৪৫ হাজারের জিপিএ চেঞ্জ হইলো, ৪৫ হাজার; নট ৪ হাজার ৫০০। এছাড়া ৫ হাজার ফেল করা শিক্ষার্থী পাস করলো, ৩ হাজার ৭৯ জন জিপিএ এ-প্লাস পেলো। কারণটা কী?’
খাতা মূল্যায়নে অনিয়মের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষকদের কেউ কেউ খাতা নিজেরা না দেখে অন্যদের দিয়ে দেখিয়েছেন। তাদের দায়িত্বে অবহেলা ও অনিয়মের কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় দায়ীদের আইনের আওতায় আনার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ‘এক্সামিনাররা কারা কারা এই দুষ্টুমি করেছে, তাদেরকে আমি আইনের আওতায় আনবো। এখন এক্সামিনার চেঞ্জ করব, ট্রেনিং করাব, সবকিছু ঠিক করলাম।’
এরপর বন্ধুর অজান্তে খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করার ঘটনাটি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘এর মাঝখানে একটা ইন্টেলিজেন্ট নটোরিয়াস বয় (ধুরন্ধর ছেলে) এমন একটা ঘটনা ঘটিয়ে দিলো, যেটা আজকে আপনার এখানে থাকতে টেলিফোনে মামলা করার কথা বললাম।’
তিনি বলেন, এক শিক্ষার্থীর বন্ধু জিপিএ-৫ পেয়েছে। কিন্তু তার ধারণা ছিল, ওই বন্ধু জিপিএ-৫ পাওয়ার যোগ্য নয়। পুনর্নিরীক্ষণের আবেদনে ভেরিফিকেশন কোডের প্রয়োজন না থাকায় সে বন্ধুর পরিচয়ে তার খাতা পুনর্নিরীক্ষণের জন্য পাঠিয়ে দেয়।
এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘এখন রি-এক্সামিন হয়ে গেছে বন্ধুর খাতা। বন্ধুর জিপিএ, এখন দেখা গেল বন্ধু ফেল করেছে! স্যার, চিন্তা করতে পারেন? জিরোকে (শূন্য) বানিয়েছে ৮৫, ১৩-কে বানিয়েছে ৮৩, জিপিএ-৫ মানে এ-প্লাস। তার মানে কী? ডাল মে কুছ কালা হ্যায়। এটা কে করেছেন? এটা বের করা কত কঠিন! আজকে মামলা করে দিলাম। এটা বের করতে হবে আমাকে।’
/তারিকুল