
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বহুল আলোচিত ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ পরিকল্পনাটি ঘোষণার মাত্র কয়েক দিনের মাথায় মুখ থুবড়ে পড়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে নিরাপত্তা প্রদানের লক্ষ্যে গৃহীত এই সামরিক অভিযানটি স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে ওয়াশিংটন। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মিত্র সৌদি আরব ও কুয়েতের কঠোর এবং অনমনীয় অবস্থানের কারণেই ট্রাম্পকে তার এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা থেকে পিছু হটতে হয়েছে বলে জানা গেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিয়াদ এই অভিযানে তাদের আকাশসীমা এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। গত রোববার ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আকস্মিকভাবে এই প্রকল্পের ঘোষণা দিলে সৌদি নেতৃত্ব ক্ষুব্ধ হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় তারা পরিষ্কার
সৌদি আরবের পদাঙ্ক অনুসরণ করে কুয়েতও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তাদের সামরিক ঘাঁটি ও আকাশসীমা ব্যবহারের সুবিধা বন্ধ করে দিয়েছে। ড্রপ সাইট-এর একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করে জানানো হয়েছে যে, মিত্র দেশগুলোর এমন নজিরবিহীন অসহযোগিতার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় এককভাবে সামরিক অভিযান চালানো পেন্টাগনের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে মাঠ পর্যায়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের আগেই বড় ধরনের কূটনৈতিক সংকটের মুখে পড়ে ট্রাম্প প্রশাসন।
বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত এড়ানোর লক্ষ্যেই কুয়েত ও সৌদি আরব এমন কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী মার্কিন নৌবাহিনীর পাহাড়ায় জাহাজ পার করে দেওয়ার কথা থাকলেও, স্থানীয় শক্তিগুলো একে উসকানিমূলক হিসেবে দেখছে। এই কূটনৈতিক টানাপোড়েন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের ধাক্কা এবং ওয়াশিংটনের একপাক্ষিক নীতি নির্ধারণের সীমাবদ্ধতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মিত্রদের থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়ার বার্তা পাওয়ার মাত্র দুই দিনের মাথায় বুধবার ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রকল্পটি স্থগিত করার ঘোষণা দেন। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বর্তমানে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর প্রভাব কতটা শক্তিশালী। ওয়াশিংটনের যেকোনো সামরিক পদক্ষেপের ক্ষেত্রে এখন থেকে মিত্রদের স্বার্থ ও সম্মতি বিবেচনা করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন এক সমীকরণের জন্ম দিয়েছে।
/টিএ