
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
ভারত ও ভিয়েতনাম তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে এবং একে একটি ‘উন্নত সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারিত্ব’-এর পর্যায়ে উন্নীত করতে সম্মত হয়েছে। বুধবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ভিয়েতনামের রাষ্ট্রপতি তো লামের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে উভয় দেশ বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা এবং প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতার জন্য একটি উচ্চাভিলাষী কর্মপরিকল্পনার রূপরেখা তৈরি করেছে, যা এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বৈঠক শেষে এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই নতুন অংশীদারিত্ব উভয় দেশের ‘যৌথ দৃষ্টিভঙ্গি ও কৌশলগত ঐক্য’-এর প্রতিফলন। অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে দুই দেশ ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে নিয়ে যাওয়ার
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (পূর্ব) সচিব পি কুমারান সংবাদমাধ্যমকে জানান, বাণিজ্যের পাশাপাশি কৃষি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ভারত থেকে আঙুর রপ্তানি এবং ভিয়েতনাম থেকে ডুরিয়ান আমদানির অনুমোদনকে উভয় পক্ষ স্বাগত জানিয়েছে। এছাড়া ডালিম ও জাম্বুরার মতো ফলগুলোর দ্রুত বাজার প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করছে দুই দেশ। সরবরাহ শৃঙ্খল বা সাপ্লাই চেইনকে আরও স্থিতিশীল করতে ভারত থেকে কাঁচামাল ও পণ্য আমদানি বাড়ানোর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ভিয়েতনাম।
প্রতিরক্ষা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা সহযোগিতা এই সফরের অন্যতম প্রধান দিক হিসেবে উঠে এসেছে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে উভয় দেশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয় এবং সামরিক শিল্পে সহযোগিতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশেষ করে সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারতের ‘ইনফরমেশন ফিউশন সেন্টার–ইন্ডিয়ান ওশান রিজিয়ন’-এ ভিয়েতনামের লিয়াজোঁ কর্মকর্তা নিয়োগের প্রস্তাবকে স্বাগত জানানো হয়েছে। ডিজিটাল অর্থনীতি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) মতো আধুনিক প্রযুক্তিতেও একে অপরকে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দুই রাষ্ট্র।
আর্থিক খাতে উদ্ভাবন আনতে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া এবং স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ভিয়েতনামের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর ফলে কিউআর-ভিত্তিক (QR-code) ব্যবস্থার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে আন্তঃসীমান্ত ডিজিটাল লেনদেন সহজতর হবে। এছাড়া, ভিয়েতনামের বিভিন্ন প্রদেশে ভারতের অর্থায়নে পরিচালিত ৬৬টি ‘দ্রুত প্রভাব সৃষ্টিকারী প্রকল্প’ (Quick Impact Projects) তৃণমূল পর্যায়ে ইতিবাচক পরিবর্তন আনায় সন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। এই বহুমুখী সহযোগিতার মাধ্যমে ভারত ও ভিয়েতনাম দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় তাদের প্রভাব আরও সুসংহত করতে চায়।
/টিএ