logo
youtube logotwitter logofacebook logo
/জাতীয়
র‍্যাব বিলুপ্ত করে সংসদে এসআরবি বিল পাস - image

র‍্যাব বিলুপ্ত করে সংসদে এসআরবি বিল পাস

10 সেপ্টেম্বর 2026, বিকাল 6:54

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিলুপ্ত করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬’ সংশোধিত আকারে জাতীয় সংসদে পাশ হয়েছে।বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বিলটি সংশোধিত আকারে পাশের জন্য উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ। বিরোধী দলের আপত্তির মধ্যেই আলোচনা শেষে বিলটি সংসদে পাশ হয়।বিলটির বিভিন্ন ধারায় আপত্তি তুলে তা অনুমোদন না করার আহ্বান জানান বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তবে তার আপত্তি এবং বিরোধী দলের বক্তব্য উপেক্ষা করেই বিলটি পাশ করা হয়।সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নতুন এ আইনের ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানো, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা এবং বাহিনীর কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য একটি কার্যকর কাঠামো গড়ে উঠবে।/টি

সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬

ভারতে ব্রিকস সম্মেলনে যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী

ভারতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধি অংশ নেবেন না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রোহিঙ্গাবিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারের ফাঁকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। পরে বিএনপির মিডিয়া সেলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ কথা জানানো হয়।পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে তাঁকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।টি/

সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬

প্রকল্পের মেয়াদ-ব্যয় বৃদ্ধি ঠেকাতে নতুন নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর

সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে বারবার মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির প্রবণতা ঠেকাতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে দুর্বল সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, যথাযথ ব্যয় প্রাক্কলন না করা, ভূমি অধিগ্রহণে বিলম্ব, ক্রয় প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা, দুর্বল মনিটরিং ও জবাবদিহির ঘাটতিসহ বিভিন্ন কারণ রয়েছে। আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।বিকেল সাড়ে ৩টায় জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়। শুরুতে প্রশ্নোত্তর পর্বে লিখিত প্রশ্নের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে মেয়াদ বৃদ্ধি ও ব্যয় বৃদ্ধি সাধারণত একটিমাত্র কারণে হয় না— বরং প্রকল্প প্রণয়ন, অনুমোদন, ভূমি অধিগ্রহণ, অর্থায়ন, ক্রয় প্রক্রিয়া, ব্যবস্থাপনার একাধিক দুর্বলতা পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এই সমস্যা তৈরি করে।তিনি বলেন, ‘প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির প্রবণতার বিষয়টি সরকারের দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর এ বিষয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নতুন প্রকল্প গ্রহণের আগে নির্ভুল সম্ভাব্যতা সমীক্ষা নিশ্চিত করা এবং প্রকল্প অনুমোদনের পর বাস্তবায়ন প্রস্তুতি দ্রুত করার উদ্যোগ রয়েছে।’প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও সংশোধনসংক্রান্ত বিদ্যমান নির্দেশিকা সময়োপযোগী করার লক্ষ্যে সংশোধন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। চলমান প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি মনিটরিং জোরদার করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগে ড্যাশবোর্ড স্থাপন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিয়মিত প্রকল্প পর্যালোচনা ও মাঠপর্যায়ে নিবিড় তদারকি বাড়ানো হয়েছে।ভূমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তরের কাজ দ্রুত শেষ করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।/টি

সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক জোরদারে অমীমাংসিত বিষয় দ্রুত সমাধানের আহ্বান

বাংলাদেশ ও ভারতের বিদ্যমান সম্পর্ক আরও শক্তিশালী ও টেকসই করতে অমীমাংসিত বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে গঙ্গা, তিস্তাসহ অভিন্ন নদনদীর পানির ন্যায্য বণ্টনে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে বঙ্গভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর ন্যায়সঙ্গত ও উভয় দেশের জন্য গ্রহণযোগ্য সমাধান হলে দুই দেশের জনগণের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাস আরও বাড়বে।অভিন্ন নদনদীর পানি ব্যবস্থাপনা দুই দেশের মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি গঙ্গা, তিস্তাসহ অভিন্ন নদ-নদীর পানির ন্যায্য বণ্টনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। জবাবে হাইকমিশনার জানান, এ বিষয়ে তার সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।রাষ্ট্রপতি বলেন, নিকটতম প্রতিবেশী এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে বাংলাদেশ বিশেষ গুরুত্ব দেয়। সার্বভৌম সমতা, জাতীয় স্বার্থ, মর্যাদা ও জনগণের কল্যাণকে সমুন্নত রেখে ভারতের সঙ্গে সম্মানজনক, ভবিষ্যতমুখী, পারস্পরিক শ্রদ্ধাপূর্ণ ও লাভজনক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে বাংলাদেশ আগ্রহী। বাণিজ্য, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তি, যোগাযোগ, সংস্কৃতি ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।সাক্ষাৎকালে ভারতের হাইকমিশনার রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে ভারত অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় এবং পারস্পরিক মর্যাদা, আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে আগ্রহী। দুই দেশের জনগণের সামর্থ্য ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে শান্তি, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। রাষ্ট্রপতি হাইকমিশনারকে ধন্যবাদ জানিয়ে তার সফল কর্মকাল কামনা করেন এবং তার দায়িত্ব পালন দুই দেশের সম্পর্ককে আরও ফলপ্রসূ ও জনকল্যাণমুখী করতে সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।/টি

সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬

রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের অন্যতম বড় সংকট: প্রধানমন্ত্রী

রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের অন্যতম বড় সংকট বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাপান সরকারের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত ও নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন।আজ সোমবার  সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে আসেন ইয়োহেই সাসাকাওয়া। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন এসব তথ্য জানান।বৈঠকে জাপান সরকারের বিশেষ দূত বলেন, প্রায় ৫০ বছর ধরে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও বৈষম্য নিরসনে কাজ করছেন। মিয়ানমারে বিষয়ে জাপান সরকারের বিশেষ দূত হিসেবে তার ভূমিকার কথাও তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জানান।রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে উল্লেখ করে জাপানের বিশেষ দূত বলেন, এ পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি অবগত। রোহিঙ্গাদের সহায়তায় জাপান সরকারের বিভিন্ন অনুদান ও মানবিক সহযোগিতার কথাও তুলে ধরেন তিনি।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাসাকাওয়াকে বাংলাদেশ সফরের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং তার দীর্ঘদিনের মানবিক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের অন্যতম বড় সংকট। এ সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের পাশে থাকার জন্য জাপান সরকারকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।/টি

সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬

উপজেলা নির্বাচন: পোস্টার-মিছিল নিষিদ্ধ, এআই অপপ্রচারে শাস্তির বিধান

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে নতুন ‘উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালা-২০২৬’ জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গত ৩ সেপ্টেম্বর ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের স্বাক্ষরের পর বিধিমালাটি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়। নতুন বিধিমালায় নির্বাচনি প্রচারণায় পোস্টার, মিছিল ও শোডাউন নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি হেলিকপ্টার ব্যবহার এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।নতুন আচরণবিধিতে প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের প্রচারণার ধরন, নির্বাচনি ব্যয় এবং প্রচারসামগ্রী ব্যবহারের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম করা হয়েছে। কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কেউ পোস্টার ব্যবহার করতে পারবেন না। ভবন, দেয়াল, গাছ, বেড়া, বিদ্যুতের খুঁটি, সরকারি স্থাপনা, সেতু ও কালভার্টসহ বিভিন্ন স্থানে প্রচারসামগ্রী ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ থাকবে। তপশিল ঘোষণার পর থেকে ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ পর্যন্ত প্রকাশ্য মিছিল, শোডাউন এবং ট্রাক, বাস, মোটরসাইকেল, নৌযান বা ট্রেন ব্যবহার করে শোভাযাত্রাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রচারণার সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ধরনের প্রচারণা শুরুর আগে কোন কোন মাধ্যমে প্রচার চালানো হবে, সে তথ্য রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানাতে হবে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের ব্যয় নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাবের অন্তর্ভুক্ত হবে। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, বিদ্বেষপূর্ণ বা ব্যক্তিগত আক্রমণমূলক কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নির্বাচনি পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে—এমন কনটেন্ট প্রচারের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।ভোটারদের প্রভাবিত করতে অর্থ, খাবার, পানীয় বা উপহার দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ধর্মীয় উপাসনালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি অফিসে প্রচারণা চালানো যাবে না। ধর্মের অপব্যবহার, পেশিশক্তির ব্যবহার, কুৎসা বা ব্যক্তিগত চরিত্রহননমূলক প্রচারণাও নিষিদ্ধ থাকবে। একইভাবে সরকারি যানবাহন, প্রচারযন্ত্র বা অন্য কোনো সরকারি সম্পদ নির্বাচনি কাজে ব্যবহার করা যাবে না এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নির্বাচনি প্রচারণায় অংশগ্রহণের ওপর বিধিনিষেধ থাকবে।বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে নির্বাচন কমিশন তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে পারবে এবং গুরুতর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া আচরণবিধি লঙ্ঘনের জন্য সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের দাবি, নতুন আচরণবিধির লক্ষ্য উপজেলা নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও প্রতিযোগিতামূলক করা এবং প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা। বিশেষ করে পোস্টার, মিছিল-শোডাউন নিষিদ্ধ এবং এআই-নির্ভর অপপ্রচারের বিরুদ্ধে বিধান এবারের নির্বাচনি প্রচারণায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে।/টি

সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬

চিকিৎসক ও রোগী—উভয়ের নিরাপত্তাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

চিকিৎসক এবং রোগী—উভয়ের নিরাপত্তাই সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড এম এ মুহিত। তিনি বলেন, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসা রোগী উভয়ের নিরাপত্তা নিয়েই সরকার অত্যন্ত সচেতন ও সক্রিয় এবং এ বিষয়ে ইতিমধ্যে নানা কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ আয়োজিত ‘৪৮তম (বিশেষ) বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডার নবনিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের যোগদান ও ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।নবনিয়োগপ্রাপ্ত তরুণ চিকিৎসকদের উদ্দেশে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, “চিকিৎসক হিসেবে আপনারা গুরুদায়িত্ব নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়বেন। একদিকে চিকিৎসকদের সুরক্ষা ও কর্মক্ষেত্রের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা যেমন জরুরি, তেমনই সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের নিরাপদ ও সুচিকিৎসা পাওয়ার অধিকার রক্ষা করাও সরকারের দায়িত্ব। আমরা এই দুই নিরাপত্তা নিয়েই অত্যন্ত চিন্তিত ও সচেতন।”চিকিৎসকদের কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরে ড. মুহিত বলেন, চিকিৎসকদের সুরক্ষায় তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে দেশের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ৫ হাজার আনসার সদস্য মোতায়েনের ঐতিহাসিক ও বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সামগ্রিক পরিবেশ উন্নত করার ওপরও জোর দেন তিনি।মন্ত্রী বলেন, “চিকিৎসা ব্যবস্থার গুণগত মান বাড়ানো, হাসপাতালের সামগ্রিক পরিবেশের উন্নতি এবং রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রশমিত হবে। মানুষের আক্ষেপের মূল কারণগুলো সমাধান করলেই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দূর করা সম্ভব হবে।”স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ বিনির্মাণে ২০টি সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার রয়েছে। ডাক্তারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া এর একটিও বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। আমরা ধ্বংসপ্রাপ্ত ভগ্ন স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পেয়েছি, যেখানে দুর্নীতি, দালালের দৌরাত্ম্য ও অনিয়ম চেপে বসেছিল। কিন্তু বাস্তবতার ওপর দাঁড়িয়েই আমাদের এই ব্যবস্থাকে আমূল পরিবর্তন করতে হবে।”নবীন বিসিএস কর্মকর্তাদের উদ্দেশে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড মুহিত বলেন, বিসিএসে উত্তীর্ণ হওয়া কোনো চূড়ান্ত গন্তব্য নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘ কর্মজীবনের সূচনা প্ল্যাটফর্ম।চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, “আপনারা একই সঙ্গে চিকিৎসক এবং সরকারের প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা। শুধু চিকিৎসা জানলেই চলবে না, সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়া, ই-টেন্ডারিং ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কেও শুরু থেকেই সম্যক জ্ঞান অর্জন করতে হবে। মাঠপর্যায়ে উপজেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে দূরত্ব ঘুচিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।”ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্য ব্যবস্থার রূপরেখা তুলে ধরে তিনি প্রযুক্তিবান্ধব ও গবেষণামুখী হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, সরকার আধুনিক ‘ডিজিটাল হেলথ’ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে। এই নতুন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এবং আগামী কয়েক দশক জনগণকে নিরবচ্ছিন্ন আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে নবীন চিকিৎসকদেরই নেতৃত্ব দিতে হবে।অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব ড. এ এন এম বজলুর রশীদ, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল হোসেন প্রমুখ।

সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে মাসব্যাপী অভিযান: ৫০ মামলা ও ১ কোটি টাকা জরিমানা

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আগস্ট মাসে নিরাপদ খাদ্য আইনে মোট ১ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়৷ এর মধ্যে ঢাকা মহানগর এলাকায় ২৫টি অভিযানের মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা জরিমানা ও ১০টি মামলা দায়ের করা হয়; ঢাকা মহানগর ছাড়া সারা দেশের বিভিন্ন জেলায় ২৯টি অভিযানের মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য আইনে ৪৮ লাখ টাকা জরিমানা ও ৩১টি মামলা দায়ের করা হয়; এছাড়া, বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের বিচারক ও বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পরিচালিত সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে ৫টি প্রতিষ্ঠানকে ৪২ লাখ টাকা জরিমানার পাশাপাশি ৯টি মামলা দায়ের করা হয়৷ সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের আগস্ট মাসে ৫৯টি অভিযানের মাধ্যমে মোট ১ কোটি টাকা জরিমানা করা হয় এবং ৫০টি মামলা দায়ের করা হয়৷ একই সময়ে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ১১৯৮টি খাদ্যস্থাপনা মনিটরিং করা হয় এবং ১৩টি রপ্তানিযোগ্য পণ্যের স্বাস্থ্যসনদ প্রদান করা হয়।একইভাবে, গত ৩০ আগস্ট ২০২৬ থেকে ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত এক সপ্তাহে রাজধানী ঢাকা এবং দেশের বিভিন্ন জেলায় পরিচালিত অভিযানের মাধ্যমে সব মিলিয়ে ৭টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১৫ লাখ টাকা জরিমানা আদায় এবং ৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। উক্ত সময়ে (৩০ আগস্ট ২০২৬ থেকে ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর বাস্তবায়নে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় মোট ৫টি প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করা হয়।বাধ্যতামূলক নিবন্ধনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে অনিবন্ধিত অবস্থায় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা, নকল পণ্য উৎপাদন, পচা-বাসী খাবার বিক্রি করা এবং ট্রেড লাইসেন্স ও বিএসটিআই প্রদর্শনে ব্যর্থ হওয়া প্রভৃতি অপরাধের কারণে ৩টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪ লাখ টাকা জরিমানা এবং ৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।উক্ত সাত দিনে চট্টগ্রাম, সিলেট ও লহ্মীপুর জেলার মোট ৪টি প্রতিষ্ঠানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। উৎপাদনস্থলে তেলাপোকা-ছারপোকার বিচরণ, অনুমোদনহীন ঘি এর ব্যবহার, কবিরিয়ানি থেরীতে কেওড়াজলের ব্যবহার, অনুমোদনহীন রং এর ব্যবহার, পণ্যের গায়ে লেবেল না থাকা, নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার উৎপাদন করা, পোড়াতেলের ব্যবহার প্রভৃতি কারণে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুসারে উক্ত ৪টি প্রতিষ্ঠানে মোট ১১ লাখ টাকা জরিমানা আদায় এবং ৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।আইন প্রয়োগের পাশাপাশি খাদ্য নিরাপদতা নিশ্চিতে সারাদেশে খাদ্যস্থাপনা মনিটরিং কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। গত এক সপ্তাহে বাজার, হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেকারি, মিষ্টির দোকান, খাদ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানসহ মোট ১৩৭টি খাদ্যস্থাপনায় মনিটরিং পরিচালনা করা হয়। মনিটরিং কার্যক্রমের মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবেশন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনে নিরাপদ খাদ্যবিধি অনুসরণের বিষয়টি তদারকি করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।এছাড়া, নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের বহুমুখী প্রচার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এসব প্রচারণার মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য গ্রহণ, স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য উৎপাদন ও বিপণন এবং ভোক্তার করণীয় বিষয়ে জনগণকে সচেতন করা হচ্ছে। উক্ত সময়ে সচেতনতামূলক টিভিসি বাংলাদেশ টেলিভিশনে টিভিসি প্রচারের পাশাপাশি স্ক্রলবার্তাও প্রচার করা হয়েছে এবং বাংলাদেশ বেতারে নিরাপদ খাদ্যবিষয়ক বিভিন্ন অডিওবার্তা প্রচার করা হয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ছবি, রিলস ও ভিডিওর মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্যবিষয়ক সচেতনতামূলক বার্তা নিয়মিত প্রচার করা হচ্ছে।

সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬

অক্টোবরে ডেঙ্গুর বড় ধাক্কা সামলাতে এখনই নামতে হবে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

চলতি সেপ্টেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ অথবা অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহে দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি বিপজ্জনক রূপ নিয়ে সংক্রমণের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড এম এ মুহিত। এই সম্ভাব্য মহামারি ঠেকাতে এখন থেকেই সবাইকে নিজ নিজ কর্মস্থল ও বাসাবাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি দেশজুড়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদের জেনারেল ওসমানী গেটে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এ আশঙ্কার কথা জানান।স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. মুহিত বলেন, “বিগত তিন-চার বছরের তথ্য-উপাত্ত এবং এপিডেমিওলজিক্যাল বিশ্লেষণ করে আমরা দেখেছি যে বৃষ্টির ধরন, উষ্ণ তাপমাত্রা ও সার্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সেপ্টেম্বরের শেষ ও অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহেই সাধারণত ডেঙ্গুর পিক টাইম আসে। তাই এখনই প্রতিরোধ জোরদার না করলে আগামী মাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যেতে পারে।”পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে যুক্ত করার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, “সরকারি কর্মীদের পাশাপাশি রেড ক্রিসেন্ট, স্কাউটস, গার্লস গাইডসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনকে সম্পৃক্ত করে দু-এক দিনের মধ্যেই ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমন্বিত সামাজিক আন্দোলন শুরু করা হবে। বিশেষ করে ঢাকা শহরের অ্যাপার্টমেন্টগুলোতে কর্মীদের প্রবেশে সীমাবদ্ধতা থাকায় অ্যাপার্টমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন ও নাগরিকদের ব্যক্তিগতভাবে সচেতন হতে হবে।”পুলিশিং বা শাস্তির চেয়ে নাগরিকদের উদ্বুদ্ধকরণে জোর দিয়ে তিনি আরও বলেন, “ডেঙ্গুর মতো সংক্রামক ব্যাধি শুধু নজরদারি করে নির্মূল করা যায় না। এর সংক্রমণ থেকে বাঁচতে প্রতিটি নাগরিককে নিজ থেকেই স্বাস্থ্যকর্মী হয়ে উঠতে হবে।”হাসপাতালগুলোর প্রস্তুতি তুলে ধরে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড এম এ মুহিত জানান, হাসপাতালে ডেঙ্গুর চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে রোগী বাড়লেও যাতে সংকট না হয়, সেজন্য বিশেষ প্রস্তুতি রয়েছে। বর্তমানে কোনো শয্যাসংকট নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সম্ভাব্য চাপ সামলাতে সোমবার সব সিভিল সার্জনের সঙ্গে জুম বৈঠক করে অতিরিক্ত বেড প্রস্তুত রাখা, পর্যাপ্ত স্যালাইন এবং টেস্ট কিটের মজুত নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হবে।”স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, মৃত্যুর হার কমিয়ে আনতে সোসাইটি অব মেডিসিনের সহযোগিতায় ইতোমধ্যে প্রায় ৩০০ চিকিৎসককে ডেঙ্গুর স্ট্যান্ডার্ড ম্যানেজমেন্টের ওপর রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালগুলোর ভেতরে যেন ডেঙ্গু না ছড়ায়, সেজন্য পর্যাপ্ত মশারি বিতরণ এবং আশপাশের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।গত কয়েক বছরের মৃত্যুর পরিসংখ্যান উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি মৃত্যুই অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিবেচনায় নিয়ে সরকার এবার এক মাস আগে থেকেই সমন্বিত পদক্ষেপ জোরদার করছে।মশক নিধন প্রসঙ্গে তিনি জানান, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও সিটি করপোরেশনগুলোর সঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দুই মাস আগে থেকেই সমন্বিতভাবে কাজ করছে এবং সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় মশক নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার রাখা হবে। একই সঙ্গে আতঙ্কিত না হয়ে রোগ প্রতিরোধে সতর্ক থাকার পরামর্শ প্রচার করতে গণমাধ্যমের সক্রিয় সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।

সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৬

নদী দূষণমুক্ত করতে সমন্বিত উদ্যোগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

রাজধানীর নদ-নদী দূষণমুক্ত ও নাব্য রাখতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।আজ রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে ঢাকার চারপাশের নদ-নদীর দূষণ নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য অপসারণ, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা এবং বৃত্তাকার নৌপথের উন্নয়ন নিয়ে পর্যালোচনা সভায় এসব নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।সভায় বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, ধলেশ্বরী, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদীর দূষণ নিয়ন্ত্রণ, নদীসংলগ্ন খাল ও ড্রেনের বর্জ্য অপসারণ এবং পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ও নাব্যতা ফিরিয়ে আনার বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি ঢাকার চারপাশের বৃত্তাকার নৌপথ উন্নয়নের অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়।প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিজেদের জন্যই নয়, পরবর্তী প্রজন্মের জন্যও দূষণমুক্ত নদী ও বাসযোগ্য পরিবেশ রেখে যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। শুধু সরকারি নির্দেশনার অপেক্ষায় না থেকে ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধ থেকেও পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখতে হবে।সভায় এ পর্যন্ত নেওয়া পরিকল্পনাগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী, মুখ্য সচিব, নৌবাহিনীর কর্মকর্তা এবং ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসকসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।/টি

সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৬

ইউপি নির্বাচনের তফসিল নিয়ে যা জানালো নির্বাচন কমিশন

চলতি সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই বহুল প্রতীক্ষিত ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা সরাসরি অংশ নিতে পারবেন না বলে জানিয়েছে কমিশন। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) আগারগাঁওয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এসব তথ্য জানান।ইসি আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, দেশজুড়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে যে আবহ তৈরি হয়েছে, তার অংশ হিসেবে সেপ্টেম্বরের শেষেই ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা সম্ভব হবে। তবে দেশের সব ইউনিয়নে একসঙ্গে নির্বাচন আয়োজন করা অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে কঠিন। সরকারের ব্যয় সংকোচন নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ধাপে ধাপে দেশের সব ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নভেম্বর ও ডিসেম্বরের পরীক্ষার সময় এড়িয়ে ভোটের তারিখ নির্ধারণ করা হবে বলেও জানান তিনি।এদিকে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর দাবির বিষয়ে নেতিবাচক অবস্থান জানিয়েছে ইসি। একই সঙ্গে ভোটার স্থানান্তরকে স্বাভাবিক ও নিয়মিত প্রক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করে এ নিয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কমিশনার। সরকারের চাপের বিষয়ে জামায়াতের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন সরকারের চাপে রয়েছে—এমন ভিত্তিহীন দাবি করাই মূলত কমিশনকে রাজনৈতিকভাবে চাপে রাখার একটি কৌশল। আসন্ন উপনির্বাচনে আইটি-সাপোর্টেড পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করার প্রস্তুতিও চলছে বলে জানান তিনি।স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারচুপি ও অনিয়ম ঠেকাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের কথাও জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানান, সব ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের ব্যবস্থা করা হবে। নিরাপত্তায় নিয়োজিত কর্মকর্তাদের জন্য বডি ওর্ন ক্যামেরার সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। ভোটকেন্দ্রের অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধানের কাজও চলছে। পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের মাধ্যমে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে কমিশন কাজ করছে বলে জানান তিনি।/টি

সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৬

প্রতিবন্ধী অধিকার সংসদীয় ককাসের নেতৃত্বে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. মুহিত

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত-কে আহবায়ক করে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার বিষয়ক সর্বদলীয় সংসদীয় ককাস গঠন করা হয়েছে। এছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এমপি সেলিমা রহমান ও জামায়াতের মহিলা শাখার সম্পাদক এমপি নুরুন্নিসা সিদ্দিকীকে সহ-আহ্বায়ক নির্বাচন করা হয়েছে।শনিবার( ৫ সেপ্টেম্বর )রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে সাইটসেভার্স, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল (ডিআই) এবং ব্লাইন্ড এডুকেশন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (বার্ডো)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার বিষয়ক সংসদীয় ককাস গঠন’ শীর্ষক উচ্চ-পর্যায়ের পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, প্রতিবন্ধিতা কোনো করুণা বা নিছক ভাতার বিষয় নয়, বরং প্রতিটি নাগরিকের মতো প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদেরও সংবিধানে পূর্ণ সমান অধিকার রয়েছে।  তিনি বলেন, পৃথিবীতে ‘প্রতিবন্ধী’ বলে আলাদা কিছু নেই, যা আছে তা হলো আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রের তৈরি করা প্রতিবন্ধকতা। মানুষের শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে, কিন্তু সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং অবকাঠামোগত বাধার কারণেই মানুষ প্রতিবন্ধিতার শিকার হয়। তাই সমাজের মনোজগতের পরিবর্তন ও ভৌত বাধাগুলো দূর করে প্রতিটি নাগরিকের পূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের মূল অগ্রাধিকার।ককাস গঠন’ শীর্ষক উচ্চ-পর্যায়ের পরামর্শসভায় সংসদ সদস্যদের মধ্যে আরো অংশ নেন, মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান; অ্যাডভোকেট নেওয়াজ হালিমা আরলী; ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবা হাকিম; মোস্তফা নাজমুন নাহার; নুরুন্নিসা সিদ্দিকী; নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতি; নীলুফার চৌধুরী মনি; সানসিলা জেবরিন; এবং তাসমিয়া প্রধান। পাশাপাশি ওপিডি, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, উন্নয়ন সহযোগী, জাতিসংঘ সংস্থা, এনজিও, আন্তর্জাতিক এনজিও, শিক্ষাঙ্গন এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নেন।অংশগ্রহণকারী এমপিরা এই উদ্যোগের প্রতি জোরালো সমর্থন ব্যক্ত করেন এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার, মর্যাদা ও অন্তর্ভুক্তি এগিয়ে নিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেন। সংসদ সদস্যরা একমত হন যে, প্রতিবন্ধী অধিকার একটি জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে থাকা উচিত এবং আইন প্রণয়ন, নীতি তদারকি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য সংসদের অভ্যন্তরে একটি বিশেষ ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেন।সভায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করা দেশি-বিদেশি সংগঠন, ওপিডি প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী এবং সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ এই ককাসকে সংসদীয় তদবির জোরদার করার ও আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের দিকে অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড এম এ মুহিত জানান, সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ১৮০ দিনের মধ্যে প্রতিবন্ধীদের অধিকার ও সুরক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। নীতিনির্ধারণী এই কমিটির পাশাপাশি গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি বাস্তবায়ন কমিটিও পুরোদমে কাজ করছে। গত ছয় মাসে এই দুই কমিটি চারবার বৈঠকে বসে একাধিক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে।প্রতিবন্ধিতাকে বহুমাত্রিক বা ‘ক্রস-কাটিং’ ইস্যু উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক জনসাস্থ্যবিদ স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. মুহিত বলেন, ডিস্যাবিলিটি রাইটস নিশ্চিত করা কেবল সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কাজ নয়; এখানে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানসহ প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত ভূমিকা রয়েছে। এই সমন্বিত উদ্যোগের অংশ হিসেবে গণপূর্ত অধিদপ্তর (পিডব্লিউডি) সারা দেশে যত নতুন স্থাপনা নির্মাণ করবে, সবগুলোতে বাধ্যতামূলকভাবে র‍্যাম্প, লিফট ও প্রতিবন্ধীবান্ধব টয়লেটের ব্যবস্থা রাখার সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়েছে। একইভাবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সারা দেশের ৫০০টি উপজেলা হাসপাতালে যে ১৫০ শয্যার আধুনিক ভবন নির্মাণ শুরু হয়েছে, তার নকশায় শুরু থেকেই প্রবেশগম্যতার বিষয়টি নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নতুন সব বিদ্যালয়ে র‍্যাম্পের পাশাপাশি বিশেষ উপযোগী টয়লেট নির্মাণও নিশ্চিত করা হচ্ছে।যোগাযোগ ব্যবস্থার সংস্কারের কথা তুলে ধরে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, রাজধানীর গণপরিবহনে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিতে প্রায় ২০০টি আধুনিক এসি বাস নামানো হচ্ছে, যা সরাসরি হুইলচেয়ার নিয়ে ওঠার উপযোগী হবে। একই সঙ্গে মেট্রোরেলে প্রতিবন্ধীদের জন্য ইতোমধ্যে কার্যকর হওয়া ২৫ শতাংশ ভাড়ার ছাড় ভবিষ্যতে আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা চলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।বক্তব্যে জাতীয় সংসদ কার্যক্রমে প্রতিবন্ধীবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে উপস্থিত সংসদ সদস্যদের একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড এম এ মুহিত এমপি।তিনি বলেন, সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশনের কার্যক্রমে অবিলম্বে সার্বক্ষণিক ইশারা ভাষা চালু করতে হবে এবং সংসদের দর্শক গ্যালারিতে যাতে হুইলচেয়ার নিয়ে দর্শনার্থীরা প্রবেশ করতে পারেন, সেই পথ সুগম করতে হবে।উন্নয়ন সংক্রান্ত যেকোনো আইন বা প্রকল্প আলোচনার সময় প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে চার দলের সংসদ সদস্যদের সংসদে সোচ্চার হওয়ার তাগিদ দেন তিনি।স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. মুহিত মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, বয়স বাড়লে প্রতিটি মানুষকেই বার্ধক্যজনিত কোনো না কোনো শারীরিক সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, ফলে এটি জীবনেরই একটি স্বাভাবিক অংশ। আন্তর্জাতিক ক্লাসিফিকেশন বা আইসিএফ কাঠামোর উদাহরণ টেনে তিনি উল্লেখ করেন, সমাজ যদি সহায়ক প্রযুক্তি ও প্রবেশগম্য পরিবেশ নিশ্চিত করে, তবে কোনো শারীরিক সীমাবদ্ধতাই আর মানুষের স্বাভাবিক কাজকে ব্যাহত করতে পারে না। তাই সামাজিক অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ স্তর পর্যন্ত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমান সুযোগ, মর্যাদা ও পূর্ণ অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।আলোচনা সভায় প্রস্তাবিত ককাসটির ভূমিকা, দায়িত্ব এবং কার্যাবলী নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা কীভাবে এই ককাস প্রতিবন্ধিতা-অন্তর্ভুক্তিমূলক আইন ও নীতির পক্ষে কাজ করতে, মন্ত্রণালয়-ভিত্তিক প্রতিবন্ধিতা বাজেট বরাদ্দকে উৎসাহিত করতে, প্রতিবন্ধীতা- ম্পর্কিত অঙ্গীকার বাস্তবায়নের তদারকি জোরদার করতে পারে তা তুলে ধরেন এবং আইনপ্রণেতা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠন (ওপিডি), সুশীল সমাজ ও উন্নয়ন অংশীদারদের মধ্যে নিয়মিত সম্পৃক্ততা সহজতর করার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন ।সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন, প্রতিবন্ধী আইন প্রণয়নে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করলেও, একটি সংসদীয় ককাস রাজনৈতিক অঙ্গীকার বজায় রাখতে, বিভিন্ন খাতের মধ্যে কার্যক্রম সমন্বয় করতে এবং জাতীয় উন্নয়ন প্রচেষ্টায় প্রতিবন্ধিতা-অন্তর্ভুক্তি দৃঢ় রাখতে ভূমিকা রাখতে পারবে ।অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন সাইটসেভার্স-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর অমৃতা রেজিনা রোজারিও, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল-এর চিফ অফ পার্টি আমিনুল এহসান এবং বারডো -এর নির্বাহী পরিচালক মো. সাইদুল হক।/টি

সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬
footer small logo

যোগাযোগ :

এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ

ফোনঃ +88-02-55011931

সোশ্যাল মিডিয়া

youtube logotwitter logofacebook logo

Design & Developed by:

developed-company-logo