
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
যেভাবে পরিচয় শনাক্ত হলো শেখ হাসিনার ভিডিও প্রকাশকারী তাহসিফের মরদেহের
তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর বরখাস্তকৃত কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির নিথর দেহ উদ্ধার করেছে নৌ-পুলিশ। বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর উত্তরখান এলাকা থেকে তার লাশটি পাওয়া যায়। মূলত শেখ হাসিনার দেশত্যাগের চিত্র সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার পেছনে নাম আসার পর থেকেই তিনি বেশ চর্চায় ছিলেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরখান থানার ডিউটি অফিসার শাহীনুর।
তিনি বলেন, বুধবার সন্ধ্যায় খবর পেয়ে নৌ-পুলিশ তুরাগ নদী থেকে একটি মরদেহ উদ্ধার করে। পরে বিষয়টি উত্তরখান থানাকে জানানো হয়।
নৌপুলিশের বরাতে জানা গেছে, গত ২৭ অক্টোবর রাত থেকেই নিখোঁজ ছিলেন বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি। পরদিন বুধবার বিকেলে ‘জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯’-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে উত্তরখানের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করেন টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা।
উদ্ধারের সময় তার পরনে ছিল সাদা পাজামা ও কালো পাঞ্জাবি, হাতে ছিল ঘড়ি আর পকেটে একটি আইফোন। সেই ফোনের সূত্র ধরেই পরে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তার নাম তাহসিফ সাউরি (সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট), বাবার নাম কে এম এনায়েতুর এবং তিনি উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের ১৪বি ভবনে থাকতেন।
উত্তরা জোন (দক্ষিণখান) অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) কেএইচএম এরশাদ বলেন, গতকাল সন্ধ্যায় নৌ-পুলিশ লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত লাশ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। এ ঘটনায় কোনো মামলাও হয়নি। বিস্তারিত তথ্য জানবে নৌ-পুলিশ।
নৌ পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে তুরাগের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে বিমান বাহিনীর সাবেক ওই কর্মকর্তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশ ছাড়ার ঘটনাটি এক কর্মকর্তা ধারণ করেছিলেন, আর অন্যজন তা ছড়িয়ে দিয়েছিলেন নেটদুনিয়ায়—এই অভিযোগে বিমানবাহিনীর দুই কর্মকর্তা বেশ চর্চায় আসেন। তাদের একজন হলেন প্রশাসন শাখার ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট রিফাত আশরাফী, যিনি কুর্মিটোলা এয়ারবেইসের অফিসার্স মেসের একটি ঘরের জানালা দিয়ে দৃশ্যটি ক্যামেরাবন্দী করেন। আর অপর কর্মকর্তা, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরি, সেই ভিডিও নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে প্রকাশ করেছিলেন। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর দুজনকেই বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠায় বিমানবাহিনী।
পরবর্তীকালে জানা যায়, ভিডিওর অ্যাঙ্গেল ও ক্যামেরা ঘোরানোর ধরন দেখেই সাজানো হয় তদন্তের জাল। বিমানবাহিনীর ‘এয়ার ইন্টেলিজেন্স’ নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করে বের করে ফেলে ঠিক কোন কক্ষ থেকে দৃশ্যটি নেওয়া হয়েছিল। শেষমেশ জেরার মুখে রিফাত আশরাফী স্বীকার করেন, তার ঘরের জানালা থেকেই পুরো ঘটনাটি ধারণ করা হয়েছিল। অন্যদিকে, তাহসিফ সাউরিও নিজের আইডি থেকে তা পোস্ট করার কথা মেনে নেন।