
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
গরম ভাতের সঙ্গে এক বাটি টক দই কিংবা দুপুরের খাবারের পর কয়েক চামচ দই—বাঙালির খাবারে টক দই বেশ পরিচিত। স্বাদে টক হলেও প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও জীবন্ত ব্যাকটেরিয়ার মতো পুষ্টি উপাদান থাকায় এটি স্বাস্থ্যকর খাবারের অংশ হতে পারে। তবে টানা এক মাস প্রতিদিন টক দই খেলে সবার শরীরে একই ধরনের প্রভাব পড়বে না।
নিয়মিত পরিমিত টক দই খেলে হজমের স্বাস্থ্যে উপকার মিলতে পারে। দই তৈরির সময় দুধের ল্যাকটোজের একটি অংশ ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে ভেঙে যায় এবং এতে কিছু জীবন্ত ব্যাকটেরিয়া থাকে, যা অন্ত্রের জীবাণুসমষ্টির ভারসাম্য বজায় রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে দই খেলেই গ্যাস, অম্বল বা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।
টক দই শরীরে
নিয়মিত দই খাওয়ার সঙ্গে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কম থাকার সম্পর্ক কিছু গবেষণায় দেখা গেছে। তবে এর কারণ পুরোপুরি নিশ্চিত নয় এবং দইকে কোনোভাবেই ডায়াবেটিস প্রতিরোধের ওষুধ হিসেবে দেখা যাবে না। একইভাবে, দইয়ের জীবন্ত ব্যাকটেরিয়া অন্ত্রের স্বাস্থ্যে ভূমিকা রাখতে পারে, কিন্তু এক মাস দই খেলেই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে—এমন প্রমাণও নেই।
রাতে টক দই খাওয়া নিয়েও রয়েছে নানা মত। আয়ুর্বেদে রাতে দই খাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হলেও আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে সুস্থ মানুষের জন্য রাতে পরিমিত টক দই খাওয়াকে ক্ষতিকর প্রমাণ করার মতো শক্ত তথ্য নেই। তবে যাদের দই খেলে গ্যাস, পেট ফাঁপা, অস্বস্তি বা অ্যাসিডিটি বাড়ে, তাদের সতর্ক থাকা উচিত। বিশেষ করে অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা থাকলে নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া দেখে দই খাওয়ার সময় নির্ধারণ করা ভালো।
তাই সুস্থ একজন মানুষ চাইলে প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণে চিনি ছাড়া সাধারণ টক দই খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন। এক বাটি দইয়ের সঙ্গে ফল, বাদাম বা বীজ যোগ করলে খাবারের পুষ্টিমানও বাড়তে পারে। তবে বাজারের সব দই এক নয়—কেনার সময় চিনি ও অন্যান্য উপাদানের পরিমাণ দেখে নেওয়া উচিত। দই খাওয়ার পর নিয়মিত পেটের সমস্যা, অ্যালার্জির লক্ষণ বা অ্যাসিডিটি বাড়লে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
টি/