
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
সকালে নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে উঠতে অ্যালার্মের ওপর নির্ভর করেন অনেকেই। বিশেষ করে কর্মজীবীদের জন্য সময়মতো ঘুম থেকে ওঠা জরুরি, কারণ অফিসের প্রস্তুতি, নাশতা ও যাতায়াত—সবকিছুর সঙ্গে দিনের শুরুটা জড়িয়ে থাকে। তবে নিয়মিত কিছু অভ্যাস গড়ে তুললে ফোন বা ঘড়ির অ্যালার্ম ছাড়াও নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে ওঠা সম্ভব বলে জানিয়েছেন ঘুম বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের নিজস্ব সার্কাডিয়ান ছন্দ বা জৈবঘড়ি ঘুম ও জেগে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত প্রতি রাতে সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুমের লক্ষ্য রাখা উচিত। তবে সবার ঘুমের প্রয়োজন এক নয়। কারও সাত ঘণ্টা ঘুমেই সতেজ লাগতে পারে, আবার কারও প্রয়োজন হতে পারে নয় ঘণ্টা।
ঘুমের সময় ঠিক রাখতে আলোও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সকালে ঘুম থেকে উঠে জানালার পর্দা সরিয়ে প্রাকৃতিক আলো গ্রহণ করলে শরীর জেগে ওঠার সংকেত পায় এবং সতেজ হতে সহায়তা করে। অন্যদিকে রাতে ঘুমানোর অন্তত দুই ঘণ্টা আগে থেকে শান্ত হওয়ার রুটিন তৈরি করা উপকারী। ত্বকের যত্ন নেওয়া, দাঁত ব্রাশ করা, আরামদায়ক পোশাক পরা এবং ঘরের আলো কমিয়ে আনার মতো অভ্যাস শরীরকে ঘুমের জন্য প্রস্তুত করতে পারে। অতিরিক্ত গরমও ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে, তাই প্রয়োজন অনুযায়ী ফ্যান বা এসি ব্যবহার এবং হালকা পোশাক পরা যেতে পারে।
তবে ঘুমের সময়সূচি একদিনে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। ঘুম বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, কাঙ্ক্ষিত সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য করতে ধীরে ধীরে ঘুমানো ও জেগে ওঠার সময় এগিয়ে বা পিছিয়ে নেওয়া। প্রয়োজনে প্রতিদিন প্রায় আধা ঘণ্টা করে সময় পরিবর্তন করা যেতে পারে। নিয়মিত একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস তৈরি হলে শরীর ধীরে ধীরে সেই সময়সূচির সঙ্গে মানিয়ে নেয় এবং অ্যালার্মের প্রয়োজন কমতে পারে।
ঘুমের রুটিন ঠিক করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ধৈর্য। কর্মজীবন, ব্যক্তিগত দায়িত্ব বা পরিবর্তিত সময়সূচির কারণে অনেকের ঘুমের অভ্যাস এলোমেলো হয়ে যেতে পারে। তাই নিজের প্রতি কঠোর না হয়ে শরীরের স্বাভাবিক ছন্দ বুঝে ধীরে ধীরে পরিবর্তন আনা উচিত। পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ঘুম নিশ্চিত করা গেলে সকালে ঝিমুনি কমার পাশাপাশি মেজাজ ও কর্মক্ষমতাও ভালো হতে পারে। অ্যালার্ম ছাড়াই সময়মতো ওঠার অভ্যাস তাই শুধু সময় বাঁচানোর কৌশল নয়, বরং স্বাস্থ্যকর ঘুমের রুটিন তৈরিরও একটি অংশ।
/টি