
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধনী) আইন, ২০২৬’ তামাক নিয়ন্ত্রণে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হলেও, জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আইনটির কার্যকর বাস্তবায়নের পাশাপাশি ই-সিগারেট, ভ্যাপ, নিকোটিন পাউচসহ সকল ধরনের উদীয়মান তামাকজাত পণ্যের বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি বলে জানিয়েছেন মাননীয় সংসদ সদস্য, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, গবেষক এবং তামাক বিরোধী সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
আজ সোমবার (৬ জুলাই ২০২৬) রাজধানীর বনানীর এক হোটেলে “তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ, প্রতিবন্ধকতা ও উত্তরণের উপায়”শীর্ষক আলোচনা সভায় তারা এসব কথা বলেন। টোব্যাকো কন্ট্রোল এন্ড রিসার্চ সেল (টিসিআরসি), ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ তামাকবিরোধী জোট (বাটা) এবং তামাকবিরোধী নারী জোট (তাবিনাজ)-এর যৌথ উদ্যোগে এ আলোচনা সভার
সভায় সভাপতিত্ব করেন, বাংলাদেশ সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও উবিনীগের নির্বাহী পরিচালক ফরিদা আখতার। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা আসন-৩ এর সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরা ও মহিলা আসন-৭ এর সংসদ সদস্য বিলকিস ইসলাম। বিশেষজ্ঞ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা আহছানিয়া মিশনের হেলথ সেক্টরের পরিচালক ও বিটিসিএ এর আহ্বায়ক ইকবাল মাসুদ, নারী মৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আকতার ডলি, বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের দপ্তর সম্পাদক ও ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ (ডব্লিউবিবি) ট্রাস্টের হেড অব প্রোগ্রামস সৈয়দা অনন্যা রহমান এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও তামাক নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞ তাইফুর রহমান। ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির টোব্যাকো কন্ট্রোল এন্ড রিসার্চ সেল (টিসিআরসি) এর সহযোগী অধ্যাপক ও প্রকল্প পরিচালক মোঃ বজলুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন তামাকবিরোধী নারী জোট (তাবিনাজ) এর পরিচালক সীমা দাস সীমু এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (টিসিআরসি) প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর ফারহানা জামান লিজা।
সভায় বক্তারা বাংলাদেশ সরকারকে ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ (সংশোধনী ২০২৬)’ প্রণয়নের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে তারা বলেন, সংশোধিত আইনটি তামাক নিয়ন্ত্রণে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হলেও এর সফলতা নির্ভর করবে কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর। এ লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে আইন প্রয়োগে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, স্থানীয় প্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং জনস্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে আইন বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সক্ষমতা উন্নয়নে সরকারের উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে।
বক্তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সংশোধিত আইনে ই-সিগারেট, ভ্যাপ, নিকোটিন পাউচসহ সকল ধরনের ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্ট নিষিদ্ধের বিধান বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে এসব পণ্য কার্যত নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বাজারে উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের পাশাপাশি দেশের শিশু, কিশোর ও তরুণদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। তাই তামাক ও নিকোটিন আসক্তির ফাঁদ থেকে তরুণ সমাজকে সুরক্ষা দিতে ই-সিগারেট, নিকোটিন পাউচসহ সকল ধরনের ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্টের বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর নীতিগত ও আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
বক্তারা আরও বলেন, তামাক ও নিকোটিন কোম্পানিগুলো তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্যকে নতুন রূপে, নতুন মোড়কে এবং আগ্রাসী বিপণন কৌশলের মাধ্যমে শিশু-কিশোর ও তরুণদের কাছে বিশেষভাবে উপস্থাপন করছে। মিথ্যা প্রচারণার মাধ্যমে এসব পণ্যকে নিরাপদ, আধুনিক কিংবা তুলনামূলক কম ক্ষতিকর হিসেবে তুলে ধরা হলেও বাস্তবে এসব দাবির কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। বরং এসব পণ্য তরুণদের নিকোটিন নির্ভরতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে এবং ভবিষ্যতে প্রচলিত তামাকপণ্য ব্যবহারের ঝুঁকিও বাড়িয়ে তুলছে। তামাকমুক্ত প্রজন্ম গড়ে তুলতে শুধু আইন প্রণয়নই যথেষ্ট নয়; এর কার্যকর বাস্তবায়নের পাশাপাশি তামাক কোম্পানির নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ প্রতিরোধে কার্যকর নীতিমালা গ্রহণ করতে হবে।
সভায় তামাক নিয়ন্ত্রণে ৫টি সুপারিশ করা হয়। এ সুপারিশগুলো হলো, তামাক কোম্পানির কূটচাল ও প্রস্তাব শক্ত হাতে নির্মূল করা; খুচরা শলাকা বিক্রয়, ভ্রাম্যমান বিক্রয়, এবং লাইসেন্স ছাড়া তামাক পণ্য বিক্রয় নিষিদ্ধ করা; উদীয়মান তামাকজাত পণ্য উৎপাদন, তৈরি, আমদানি, রপ্তানি, পরিবহন, বিক্রয়, বিতরণ, মজুদকরণ এবং বিজ্ঞাপনসহ ই-সিগারেট, নিকোটিন পাউচসহ সকল উদীয়মান তামাকজাত পণ্যের নিষেধাজ্ঞায় আলাদা আইন প্রনয়ণ করা; তামাক চাষ নীতি ও তামাক কর নীতি প্রণয়ন করা এবং দ্রুত আইনের বিধিমালা প্রণয়ন করা।