
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
দাম্পত্য জীবনে স্ত্রীকে উপহার দেওয়া বা সারপ্রাইজ দেওয়া কেবল একটি সামাজিক সৌজন্য নয়, এর পেছনে রয়েছে চমৎকার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা। সাম্প্রতিক মনোবিজ্ঞান ও কার্ডিওলজি গবেষণা বলছে, স্ত্রীকে নিয়মিত উপহার দেওয়া এবং তার হাসিমুখ দেখা স্বামীর মানসিক চাপ বা 'স্ট্রেস' উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়। যখন একজন পুরুষ তার সঙ্গিনীকে খুশি করার চেষ্টা করেন, তখন তার মস্তিষ্কে 'ডোপামিন' ও 'অক্সিটোসিন' হরমোনের নিঃসরণ ঘটে, যা সরাসরি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেস (UCLA)-এর একটি গবেষণায় দেখা গেছে, প্রিয়জনকে উপহার দেওয়ার সময় দাতার রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দন নাটকীয়ভাবে কমে যায়। একে গবেষকরা 'ওয়ার্ম গ্লো অব গিভিং' বা 'দানের উষ্ণ আভা' বলে অভিহিত করেছেন। এই ইতিবাচক
বিশেষজ্ঞরা জানান, অসুখী দাম্পত্য জীবনের দীর্ঘমেয়াদী মানসিক চাপ হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। বিপরীতে, উপহার আদান-প্রদান এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য থাকলে শরীরে কর্টিসল বা স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা কমে আসে। পিটসবার্গ ইউনিভার্সিটির গবেষকদের মতে, সুখী ও স্থিতিশীল সম্পর্কে থাকা পুরুষদের কার্ডিওভাসকুলার স্ট্রেস বা হৃদযন্ত্রের ধকল অন্যদের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ কম থাকে।
উপহার মানেই খুব দামী কিছু হতে হবে এমন নয়; একটি ছোট ফুল, প্রিয় চকলেট বা সামান্য চিরকুটও বড় পরিবর্তন আনতে পারে। উপহার দেওয়ার এই প্রবণতা দম্পতির মধ্যে বন্ধুত্বের দেয়াল মজবুত করে এবং এক ধরনের 'হেল্পার্স হাই' বা তৃপ্তি তৈরি করে। গবেষকদের মতে, যারা নিয়মিত প্রিয়জনকে উপহার দিয়ে আনন্দিত করেন, তারা অন্যদের তুলনায় দীর্ঘকাল সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হন।
সুস্থ হার্ট এবং সুন্দর জীবনের জন্য দামী ওষুধের চেয়েও কার্যকরী হলো ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। আপনার সামান্য একটি উপহার যদি স্ত্রীর মুখে হাসি ফোটায়, তবে সেই হাসির রেশ আপনার হৃদযন্ত্রকেও রাখবে সুস্থ ও সবল। তাই হার্টের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আজই আপনার জীবনসঙ্গিনীকে বিশেষ কোনো উপহার দিয়ে চমকে দিন।
/টিএ