
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
দেশের বিভিন্ন জেলায় শিশুদের মধ্যে সম্প্রতি হামের সংক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে শুরু করেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক বায়ুবাহিত রোগ যা আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান ডা. লুৎফুন্নেসা সতর্ক করে জানিয়েছেন, হামের সংক্রমণ ক্ষমতা এমনকি কোভিড-১৯-এর চেয়েও বেশি; একজন আক্রান্ত শিশু সহজেই ১২ থেকে ১৮ জন সুস্থ শিশুকে সংক্রমিত করতে পারে।
হামের প্রাথমিক লক্ষণের মধ্যে রয়েছে তীব্র জ্বর, সর্দি, কাশি এবং চোখ লাল হওয়া। সংক্রমণের কিছুদিন পর কপাল থেকে শুরু করে সারা শরীরে লালচে দানা বা র্যাশ দেখা দেয়। তবে ভয়ের বিষয় হলো, হামের নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ নেই। চিকিৎসকরা
বাংলাদেশে হাম প্রতিরোধের জন্য ৯ মাস বয়সে প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ টিকা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, প্রথম ডোজের হার ৯০ শতাংশের বেশি হলেও দ্বিতীয় ডোজের ক্ষেত্রে অনেক অভিভাবকই অবহেলা করেন। বিশেষ করে পরিবারের বড় সন্তানের টিকার বিষয়টি অনেক সময় গুরুত্ব হারায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্বিতীয় ডোজ সম্পন্ন না করলে শিশুর শরীরে দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা তৈরি হয় না, যা ভবিষ্যতে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
ডা. লুৎফুন্নেসা আরও জানান, নবজাতক শিশুরা মায়ের শরীর থেকে প্রাপ্ত অ্যান্টিবডির মাধ্যমে ৯ মাস পর্যন্ত সুরক্ষিত থাকে, যার ফলে এর আগে টিকা দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। তবে দেশের কিছু কিছু এলাকায় কুসংস্কারের কারণে এখনো টিকা নেওয়ার হার কম। এই ছোট ছোট জনপদ বা 'পকেট কমিউনিটি'গুলো সংক্রমণের বড় উৎস হয়ে দাঁড়াচ্ছে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের মহামারি সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি করছে।
হামের টিকা সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং এর কোনো গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। সামান্য জ্বর বা টিকা দেওয়ার স্থানে ব্যথার মতো সাধারণ উপসর্গ দেখা দিলেও তা কয়েক দিনেই সেরে যায়। তাই শিশুদের সুরক্ষায় সময়মতো এমএমআর টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। যদি কোনো কারণে টিকা দিতে দেরি হয়ে থাকে, তবে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করে শিশুকে সুরক্ষিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।