
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
গত কয়েকদিন ধরেই তীব্র শীতে কাঁপছে গোটা দেশ। ঘন কুয়াশা আর নিম্ন তাপমাত্রার হিমেল আবহাওয়ায় বিপর্যস্ত উত্তরাঞ্চলের মানুষজন। বিশেষ করে রংপুরের নিম্নআয়ের মানুষগুলোর জন্য যেন অভিশাপ হয়ে এসেছে পৌষের এই রিক্ততা। কুয়াশার কারণে একদিকে যেমন বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা অন্যদিকে শীতের তীব্রতায় বাড়ছে অসুস্থতার দুর্ভোগ। ঠান্ডা জনিত অসুস্থতায় প্রতিদিন হাসপাতালে ভীড় বাড়ছে হাজার হাজার মানুষের। এমনকি ঠান্ডাজনিত রোগে গত তিনদিনে মৃত্যু হয়েছে শতাধিক মানুষের। আর তাতে সবকিছু ছাড়িয়ে রংপুর যেন হয়ে উঠেছে এক হিমশীতল মৃত্যুপুরী।
শৈত্যপ্রবাহের কারণে ঠান্ডাজনিত রোগেরপ্রকোপে গত ৩ দিনেরংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন আরও ১৪২১ জন রোগী। এইবিপর্যয় উত্তরাঞ্চলের জনজীবনকে
রংপুরমেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সূত্রে জানা গেছে, শিশু এবং বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখাগেছে, রংপুর বিভাগে ঠান্ডাজনিত মৃত্যুর হার দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় অনেক বেশি। এর মূল কারণহিসেবে দারিদ্র্য এবং ভৌগোলিক অবস্থানের কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। ২০০৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বিশ্লেষণে রংপুরে মৃত্যুর সংখ্যা অন্যান্য জেলার তুলনায় সর্বোচ্চ ছিল। হিমালয়ের কোল্ড ফ্রন্টের প্রভাবে এমন হাড়কাঁপানো শীত পড়ে এ অঞ্চলে।
রংপুরআবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুসারে, হিমালয়ের কাছাকাছি হওয়ার কারণে এখানে শীতের তীব্রতা অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে বেশি। গত তিন দিনধরে বরফশীতল হাওয়া এবং ঘন কুয়াশা চলছে, যা রাত থেকে সকাল পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন হতে পারে। আগামী ৫ দিন এই অঞ্চলে ঘনকুয়াশা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি। এদিকে তীব্র শীতে বিপাকে পড়েছেন তিস্তা, ধরলা এবং যমুনা নদী অববাহিকার চরাঞ্চলের নিম্ন আয়ের মানুষজন। তবে সেখানে ইতোমধ্যেই ১২ হাজার ৫০০ কম্বল বিতরণ করা হয়েছে এবং আরো সাহায্য দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলাটির ত্রাণও পুনর্বাসন কর্মকর্তারা।
/টিএ