
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সরকারের গোপন তথ্য সংবাদমাধ্যমে ফাঁসকারী কর্মকর্তাদের গুলি করে হত্যা করা উচিত। সম্প্রতি অ্যারিজোনার বুলহেড সিটিতে এক নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন। ট্রাম্পের ভাষ্য, জাতীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত সামরিক অভিযানের মতো স্পর্শকাতর তথ্য ফাঁস করা গুরুতর অপরাধ এবং এর জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কঠোরতম শাস্তি দেওয়া উচিত। এর মধ্য দিয়ে তথ্য ফাঁস ঠেকাতে নিজের প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কথা আবারও তুলে ধরেন তিনি।
ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের ওপর সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের সময়সূচি ও বিস্তারিত তথ্য একজন অসাধু কর্মকর্তা ফাঁস করে দিয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ, মিসৌরি থেকে রাত ১২টা ৭ মিনিটে সামরিক বিমান কখন উড্ডয়ন করবে, সেই সুনির্দিষ্ট তথ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও সিএনএনের মতো সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এ ধরনের তথ্য ফাঁসকারীদের ‘পৃথিবীর আবর্জনা’ আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, তাদের আমৃত্যু কারাদণ্ড অথবা মৃত্যুদণ্ড দেওয়া উচিত। এর আগেও তিনি মূলধারার সংবাদমাধ্যমকে ‘জনগণের আসল শত্রু’ বলে অভিহিত করেছেন।
জনসভায় উপস্থিত সাংবাদিকদের দিকেও অভিযোগের আঙুল তোলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর দাবি, ভুয়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য প্রচারের মাধ্যমে সাংবাদিকেরাও কার্যত তথ্য ফাঁসকারীদের মতো অপরাধ করছেন। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তাঁর প্রশাসন সরকারি তথ্য ফাঁস রোধে বিভিন্ন কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে সরকারি সংস্থাগুলোর কর্মীদের বাধ্যতামূলকভাবে গোপনীয়তা রক্ষার চুক্তিতে স্বাক্ষর করানোর প্রস্তাব রয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্পর্শকাতর তথ্য ফাঁসের তদন্তের অংশ হিসেবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর জয়েন্ট স্টাফের প্রায় ৫০ জন সদস্যকে মিথ্যা শনাক্তকরণ পরীক্ষা বা পলিগ্রাফের মুখোমুখি হতে হয়েছে।
তথ্য ফাঁসের অভিযোগে সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের পদক্ষেপও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে এক সরকারি ঠিকাদারের বিরুদ্ধে গোপন নথি রাখার অভিযোগের তদন্তের সূত্র ধরে ওয়াশিংটন পোস্টের এক নারী সাংবাদিকের বাড়িতে তল্লাশি চালানোর নির্দেশ দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। তবে পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রীয় আদালত জব্দ করা তথ্য ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। এ ছাড়া গত জুনে নিউইয়র্ক টাইমস ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের চার সাংবাদিককে গ্র্যান্ড জুরির সামনে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়। সংবাদমাধ্যমগুলোর আইনি পদক্ষেপ ও তীব্র প্রতিবাদের মুখে পরে সেই সমন প্রত্যাহার করে প্রশাসন।
জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে গোপন তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করার যুক্তি তুলে ধরলেও ট্রাম্প প্রশাসনের এসব পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বাকস্বাধীনতা নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে তথ্য ফাঁসকারীদের মৃত্যুদণ্ড বা গুলি করে হত্যার পক্ষে প্রেসিডেন্টের মন্তব্য মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহের অধিকার নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সমালোচকদের দৃষ্টিতে, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার নামে সাংবাদিক ও তাঁদের তথ্যসূত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশকে সংকুচিত করতে পারে। ফলে তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।