
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
স্মার্টফোনের দিকে তাকালেই পলকে আনলক হয়ে যায় স্ক্রিন। আপাতদৃষ্টিতে একে সাধারণ একটি প্রক্রিয়া মনে হলেও, এর নেপথ্যে কাজ করে অত্যন্ত জটিল প্রযুক্তি। সাধারণত ব্যবহারকারীর মনে প্রশ্ন জাগে—ফোন কি কেবল একটি ছবি তুলে আগের ছবির সাথে মিলিয়ে দেখে, নাকি পেছনে অন্য কোনো ব্যবস্থাপনা রয়েছে? প্রকৃতপক্ষে ফেস আনলক ব্যবস্থা শুধু ২ডি (2D) ছবির ওপর নির্ভর করে না। এটি ফোন ভেদে ফ্রন্ট ক্যামেরা, ইনফ্রারেড সেন্সর, ৩ডি ডেপথ ম্যাপ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও মেশিন লার্নিংয়ের সমন্বয়ে কাজ করে। প্রথমবার সেটআপের সময় মুখের বিভিন্ন কোণ থেকে নেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি গাণিতিক বা ডিজিটাল মডেল তৈরি করা হয়, যার সাথে মিলিয়েই ডিভাইসটি মূল মালিককে শনাক্ত করে।
ফোন আনলকের পুরো প্রক্রিয়াটি চোখের পলকে কয়েকটি নিখুঁত ধাপে সম্পন্ন হয়। ব্যবহারকারী মুখের দিকে তাকালেই সেন্সর তা শনাক্ত করে মুখের বর্তমান তথ্য সংগ্রহ করে। অ্যাপলের 'ফেস আইডি'র মতো উন্নত প্রযুক্তিতে 'ট্রু-ডেপথ' (TrueDepth) ক্যামেরা হাজার হাজার অদৃশ্য ইনফ্রারেড ডট ফেলে মুখের একটি ত্রিমাত্রিক (3D) ডেপথ ম্যাপ তৈরি করে। এই তথ্যকে পরে একটি গাণিতিক মডেলে রূপান্তর করে আগে থেকে সংরক্ষিত ফেস মডেলের সাথে তুলনা করা হয়। সাধারণ ২ডি ছবিতে মুখের গভীরতার (depth) এই তথ্য থাকে না বলেই কারও ছবি দেখিয়ে উন্নত ফেস আনলক ব্যবস্থা বাইপাস বা প্রতারিত করা সম্ভব নয়।
অন্ধকারেও কাজ করা এবং সময়ের সাথে মানুষের চেহারা পরিবর্তনের বিষয়টিও এই আধুনিক প্রযুক্তি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সামলে নেয়। সাধারণ ক্যামেরায় আলো ছাড়া মুখ দেখা কঠিন হলেও ইনফ্রারেড বা বিশেষ ডেপথ-সেন্সিং সুবিধা থাকা ফোনগুলো সম্পূর্ণ অন্ধকারেও মুখের গঠন শনাক্ত করতে পারে। অন্যদিকে দাড়ি রাখা, চশমা পরা, মেকআপ বা চুলের স্টাইল বদলে গেলেও স্মার্টফোন ব্যবহারকারীকে চিনতে ভুল করে না। কারণ এটি শুধু চোখের পরিমাপ বা ছবির চেয়ে মুখের মূল হাড় ও দূরত্বের স্থির গাণিতিক কাঠামোর ওপর নির্ভর করে। এমনকি বড় পরিবর্তনের ক্ষেত্রে পাসকোড ব্যবহারের পর সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন মুখের তথ্য দিয়ে নিজেকে আপডেট করে নেয়।
ব্যবহারকারীর নিরাপত্তার স্বার্থে এসব বায়োমেট্রিক তথ্য অত্যন্ত সুরক্ষার সাথে প্রক্রিয়াজাত করা হয়। অ্যাপলসহ বেশ কিছু প্রথম সারির প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এই মুখের গাণিতিক তথ্য এনক্রিপ্ট করে ফোনের ভেতরে থাকা 'সিকিউর এনক্লেভ'-এ সংরক্ষণ করে, যা কোনোদিন ক্লাউড বা ফোনের বাইরে যায় না। অ্যান্ড্রয়েডের নিরাপত্তানীতিতেও এই তথ্য ডিভাইসের ভেতরে নিরাপদ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে প্রযুক্তিগত সুরক্ষার দিক থেকে সব ফোনের ফেস আনলক কিন্তু এক নয়। গুগলের অফিশিয়াল নথি অনুযায়ী, কিছু স্মার্টফোনে ফেস আনলক ব্যবস্থা কেবল ব্যবহারকারীর সুবিধার জন্য দেওয়া হয়, যা শক্তিশালী পিন বা পাসওয়ার্ডের চেয়ে কম নিরাপদ হতে পারে। অন্যদিকে অ্যাপলের ফেস আইডিতে 'অ্যাটেনশন ডিটেকশন' ও 'অ্যান্টি-স্পুফিং' থাকায় এতে অচেনা কারও হাত দিয়ে আনলক হওয়ার ঝুঁকি ১০ লাখে একটিরও কম।
কয়েক সেকেন্ডের এই ডিজিটাল ভেল্কি মূলত ফ্রন্ট সেন্সর, ৩ডি ম্যাপিং ও মেশিন লার্নিংয়ের এক অভাবনীয় সমন্বয়। ফলে স্মার্টফোনের গায়ে কেবল 'ফেস আনলক' বা 'ফেস আইডি' লেখা দেখলেই সব ডিভাইসে সমান নিরাপত্তা আশা করা ভুল হবে। নতুন ফোন কেনার সময় তা সাধারণ ক্যামেরাভিত্তিক ব্যবস্থা নাকি ইনফ্রারেড ও ডেপথ-ম্যাপিংয়ের মতো বায়োমেট্রিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে—তা পরখ করে নেওয়া জরুরি। সাধারণ এক দৃষ্টিতে মনে হতে পারে ফোন আপনাআপনি খুলে যাচ্ছে, কিন্তু দৃশ্যপটের আড়ালে এই কয়েকটি মুহূর্তই নিশ্চিত করে ডিভাইসটি আসলেই সঠিক মানুষের হাতে রয়েছে কি না।
(তথ্যসূত্র: টিভি ৯)
/টি