
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
বুয়েনস আইরেসের নীল-সাদা গ্যালারিতে তখন শুধুই কান্নার রোল। আন্তর্জাতিক ফুটবলকে চিরতরে বিদায় জানিয়ে দিলেন সময়ের সেরা জাদুকর লিওনেল মেসি। মাঠের ফুটবল, গ্যালারির ৮৫ হাজার ভক্তের আবেগ আর নেইমার-রোনালদোর মতো চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে শেষবারের মতো আর্জেন্টিনার জার্সি খুলে রাখলেন 'এলএম১০'। ২১ বছরের একটা রূপকথার গল্প যেন এক নিমিষেই শেষ হয়ে গেল।
গত ৬ অক্টোবর ২০২৬, বুয়েনস আইরেসের ঐতিহ্যবাহী এস্তাদিও মনুমেন্তাল স্টেডিয়াম সাক্ষী হলো ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তের। আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে বেনিনকে ৩-০ গোলে হারিয়ে নিজেদের ইতিহাসের সেরা নায়ককে বিদায় জানাল আর্জেন্টিনা।
ম্যাচ শুরুর আগেই মনুমেন্তালের আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার সময় ৩৯ বছর বয়সী মেসি এবং কোচ লিওনেল স্কালোনির চোখের জল বাঁধ মানেনি। ম্যাচের ১০ম মিনিটে যখন খেলা থামিয়ে পুরো স্টেডিয়াম দাঁড়িয়ে স্ট্যান্ডিং ওভেশন দিচ্ছিল, তখন যেন থমকে গিয়েছিল পুরো ফুটবল বিশ্ব।
বিদায়ী ম্যাচেও মেসি ছিলেন স্বমহিমায় উজ্জ্বল। নিকোলাস ওতামেন্দি ও নিকো পাজের দুটি গোলে অ্যাসিস্ট করার পর ৭১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে ক্যারিয়ারের ১২৬তম আন্তর্জাতিক গোলটি করেন তিনি। শুধু তাই নয়, ম্যাচ শেষে রেফারি তার পকেটের সব কার্ড মেসিকে উপহার দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে মেসি যখন বিদায়ী বক্তব্য দিতে যান, তখন যেন সৃষ্টি হয় এক আবেগঘণ মুহূর্তের। মেসি জানান, বিদায়ের এই বিশেষ মুহূর্তে তার ভাবনায় সবচেয়ে বেশিজুড়ে আছেন তার বাবা হোর্হে মেসি। মূলত ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে পরাজয় এবং বাবার আকস্মিক মৃত্যুর পর নিজের ফুটবল ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর সংশয় তৈরি হওয়ায়, ৩১ আগস্ট তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। বিদায়ের ক্ষণে মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামের স্মৃতি মনে করে তিনি বলেন, এই মাঠেই আমি আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম আনন্দের দিন উদযাপন করেছিলাম যখন আমরা বিশ্বকাপ জিতে এখানে ফিরেছিলাম। সেই স্মৃতি আমি জীবনেও ভুলব না।
মেসির এই বিদায়ে কেঁদেছে পুরো ফুটবল দুনিয়া। নেইমার জুনিয়র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখেন, "আমাকে ফুটবলকে আরও ভালোবাসতে শেখানোর জন্য ধন্যবাদ লিও।" অন্যদিকে, পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোও এই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর গৌরবময় আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ২০৮ ম্যাচে ১২৬ গোল, একটি বিশ্বকাপ ও দুটি কোপা আমেরিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলের সবুজ গালিচাকে চিরতরে বিদায় বললেন ফুটবলের এই মহাতারকা।