
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
কয়েক দশক ধরে ফ্যাটি লিভার রোগকে মূলত প্রাপ্তবয়স্কদের সমস্যা হিসেবে দেখা হলেও, এখন সেই চিত্র দ্রুত বদলাচ্ছে। বিশ্বজুড়ে চিকিৎসকরা লক্ষ্য করছেন, ক্রমেই বেশি সংখ্যক শিশু ও কিশোর-কিশোরী এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। ফলে অল্প বয়সীদের মধ্যে এটি দ্রুত বর্ধনশীল দীর্ঘমেয়াদি লিভার রোগে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতায় ভোগা শিশুদের মধ্যে ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
গবেষণা বলছে, ১৯৭৫ সালে যেখানে শিশু ও কিশোরদের মধ্যে স্থূলতার হার ছিল মাত্র ৪ শতাংশ, ২০১৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৮ শতাংশে। এর প্রভাব পড়েছে সরাসরি লিভারের ওপর। বর্তমানে ‘মেটাবলিক ডিসফাংশন-অ্যাসোসিয়েটেড স্টিয়াটোটিক লিভার ডিজিজ’ বা ফ্যাটি লিভার বিশ্বজুড়ে প্রায় ৫ থেকে ১০ শতাংশ শিশুদের প্রভাবিত করছে,
এই রোগের সবচেয়ে বড় উদ্বেগজনক দিক হলো এর নীরব বিস্তার। অধিকাংশ ক্ষেত্রে আক্রান্ত শিশুরা কোনো লক্ষণ অনুভব করে না এবং স্বাভাবিকভাবেই চলাফেরা করে। কিন্তু অজান্তেই তাদের লিভারে চর্বি জমতে থাকে, যা একসময় প্রদাহ সৃষ্টি করে এবং লিভারের স্থায়ী ক্ষতির দিকে নিয়ে যেতে পারে। সময়মতো শনাক্ত না হলে এটি টাইপ-২ ডায়াবেটিস, হৃদরোগসহ নানা জটিলতার কারণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু চর্বিযুক্ত খাবারই নয়, বরং অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা মিলেই এই রোগের প্রধান কারণ। অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয়, প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং দীর্ঘসময় স্ক্রিনে আসক্ত থাকা ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র আট সপ্তাহ চিনি কমালে কিশোরদের লিভারের চর্বি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।
প্রতিরোধে বিশেষজ্ঞরা গুরুত্ব দিচ্ছেন সুষম খাদ্যাভ্যাস ও সক্রিয় জীবনযাত্রার ওপর। ফলমূল, শাকসবজি, গোটা শস্য, মাছ, বাদামসহ পুষ্টিকর খাবার নিয়মিত খাওয়ার পাশাপাশি ওমেগা-৩ ও ওমেগা-৬ সমৃদ্ধ স্বাস্থ্যকর চর্বি গ্রহণ উপকারী। এছাড়া ভিটামিন ই-এর একটি রূপ ‘টোকোট্রিয়েনল’ নিয়ে গবেষণায় ইতিবাচক সম্ভাবনা দেখা গেলেও, বিশেষজ্ঞরা বলছেন—সাপ্লিমেন্ট নয়, বরং সঠিক খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং কম স্ক্রিন টাইমই হলো দীর্ঘমেয়াদি সমাধান।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শিশুদের সুস্থ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। স্বাস্থ্যকর খাবারের অভ্যাস গড়ে তোলা, খেলাধুলায় উৎসাহ দেওয়া এবং জাঙ্ক ফুড থেকে দূরে রাখাই পারে এই নীরব ঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে।
/টি