
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
বর্তমান যুগে ঘাড় ব্যথা অনেকেরই একটি নিত্যনৈমিত্তিক ও অস্বস্তিকর সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘ সময় কম্পিউটারে কাজ করা, স্মার্টফোন ব্যবহারের আধিক্য এবং ভুল ভঙ্গিতে ঘুমানোর কারণে এই সমস্যাটি এখন ঘরে ঘরে দেখা যাচ্ছে। সাধারণ মনে হলেও এই ব্যথা কখনো কখনো গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ঘাড়ে ব্যথা থাকলে অবহেলা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি, অন্যথায় তা স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ব্যাপক ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
ঘাড় ব্যথার মূল কারণসমূহ
চিকিৎসকদের মতে, ঘাড় ব্যথার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে দীর্ঘক্ষণ একই ভঙ্গিতে বসে থাকা বা মাথা নিচু করে কাজ করা, যা ঘাড়ের পেশিতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। এ
লক্ষণ ও উপসর্গ
ঘাড় ব্যথার লক্ষণ ও তীব্রতা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। এর সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে— ঘাড়ে তীব্র বা হালকা ব্যথা হওয়া, ঘাড় নাড়াতে কষ্ট হওয়া এবং আক্রান্ত স্থানে জ্বালাপোড়া অনুভব করা। অনেক সময় এই ব্যথা শুধু ঘাড়ে সীমাবদ্ধ না থেকে হাত বা বাহুতে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এর পাশাপাশি আক্রান্ত ব্যক্তির ঘনঘন মাথাব্যথা দেখা দেওয়ার মতো উপসর্গও প্রকাশ পায়।
আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি
ঘাড় ব্যথার চিকিৎসা মূলত এর কারণ ও তীব্রতার ওপর নির্ভর করে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যথানাশক বা পেশি শিথিলকারী ওষুধ সেবনের পাশাপাশি ফিজিওথেরাপি ব্যায়াম ঘাড়ের পেশি শক্তিশালী করতে অত্যন্ত কার্যকর। এ ছাড়া সাময়িক ব্যথা কমাতে হিট বা আইস থেরাপির পাশাপাশি মেরুদণ্ডের চাপ কমাতে 'ট্রাকশন' পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। তবে রোগ গুরুতর রূপ নিলে বিশেষ ক্ষেত্রে স্টেরয়েড ইনজেকশন বা সবশেষে সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে।
প্রতিরোধ ও দৈনন্দিন অভ্যাস পরিবর্তন
দৈনন্দিন জীবনে কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুললে এই সমস্যা থেকে দূরে থাকা সম্ভব। দীর্ঘ সময় একভাবে বসে না থেকে মাঝে মাঝে বিরতি নেওয়া, কাজের টেবিল–চেয়ার ও কম্পিউটার এমনভাবে সামঞ্জস্য করা যাতে মনিটর চোখের স্তরের সমান থাকে এবং নিয়মিত ঘাড়ের ব্যায়াম করা জরুরি। বসে থাকার সময় মেরুদণ্ড সরলরেখায় রাখা, শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং ভারী বস্তু তোলার সময় সতর্কতা অবলম্বন করলে মেরুদণ্ড ও ঘাড়ের ওপর বাড়তি চাপ এড়ানো যায়। সর্বোপরি, জীবনযাত্রায় সামান্য সচেতনতাই পারে এই কষ্টদায়ক সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে।
/টিএ