
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
সারাদিন ডেস্কে বসে কাজ করছেন, অথচ খাওয়াদাওয়ায় তেমন পরিবর্তন নেই—তবুও কি ওজন বাড়ছে? শরীর ভারী লাগা কিংবা অনবরত ক্লান্তি কি আপনার নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে? অনেকেই ভাবেন কেবল জিম বা ব্যায়াম করলেই এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, আসল সমস্যা লুকিয়ে আছে দিনের দীর্ঘ সময় একই ভঙ্গিতে বসে থাকার মধ্যে। দীর্ঘক্ষণ নড়াচড়া না করায় শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদী রোগের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
কেন ডেস্কে বসে থাকলে ওজন বাড়ে, তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ কানিকা মালহোত্রা। তিনি জানান, দীর্ঘসময় এক জায়গায় বসে থাকলে শরীরের মেটাবলিজম বা বিপাক প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। এর ফলে শরীর পর্যাপ্ত ক্যালরি পোড়াতে পারে না এবং
চিকিৎসকরা দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার ক্ষতিকর প্রভাব হিসেবে প্রধানত ছয়টি লক্ষণকে চিহ্নিত করেছেন। প্রথমত, নড়াচড়া কম হওয়ায় সরাসরি পেটের চারপাশে চর্বি জমতে শুরু করে। দ্বিতীয়ত, রক্তপ্রবাহ ব্যাহত হয়ে উচ্চ রক্তচাপ দেখা দেয়। এছাড়া শরীর গ্লুকোজ ঠিকভাবে ব্যবহার করতে না পারায় রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যায় এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি তৈরি হয়। পাশাপাশি শরীরে খারাপ কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইড বৃদ্ধি এবং বিপাক প্রক্রিয়া ধীর হওয়ায় সার্বক্ষণিক ক্লান্তি অনুভূত হয়। এমনকি নিয়মিত ব্যবহারের অভাবে পা ও কোমরের মাংসপেশিও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
তবে ডেস্ক জব থাকলেও জীবনযাত্রায় সামান্য কিছু পরিবর্তন এনে সুস্থ থাকা সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা পরামর্শ দিয়েছেন, প্রতি ২০-৩০ মিনিট বা অন্তত এক ঘণ্টা পর পর অন্তত ৫ মিনিটের জন্য দাঁড়িয়ে হাঁটাহাঁটি বা স্ট্রেচিং করতে হবে। দীর্ঘক্ষণ বসার ক্ষেত্রে পিঠ সোজা রাখা এবং ঘাড় ও কাঁধের সঠিক অবস্থান নিশ্চিত করা জরুরি। কাজের ফাঁকে ‘ডেস্কারসাইজ’ বা চেয়ারে বসেই হালকা হাত-পায়ের ব্যায়াম করা শরীরের রক্ত সঞ্চালন সচল রাখতে সহায়তা করে।
খাদ্যাভ্যাসের বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সকালের নাস্তা পুষ্টিকর হওয়া প্রয়োজন এবং রাতের ভারী খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। মূলত সচেতনতা এবং ছোট ছোট শারীরিক সক্রিয়তাই পারে ডেস্কে বসে কাজের দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে। জীবনযাত্রায় এই পরিবর্তনগুলো আনলে কেবল ওজন নিয়ন্ত্রণই নয়, বরং হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের মতো মরণব্যাধি থেকেও দূরে থাকা সম্ভব।
টিএ