
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠকের পরই প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে নতুন করে জোরালো হচ্ছে মস্কো-নয়াদিল্লি আলোচনা। কয়েক দিনের মধ্যেই নয়াদিল্লিতে আবারও দুই নেতার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যেই ভারতকে রাশিয়ার অত্যাধুনিক এস-৫০০ প্রোমিথিউস আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং এসইউ-৫৭ ফেলন স্টেলথ যুদ্ধবিমান কেনার প্রস্তাব দিয়েছে মস্কো। একই সঙ্গে আরও পাঁচটি এস-৪০০ স্কোয়াড্রন দেওয়ার প্রস্তাবও সামনে এসেছে।
রাশিয়ার প্রস্তাবের কেন্দ্রে রয়েছে এস-৫০০। ইতোমধ্যে ভারতের হাতে রুশ নির্মিত এস-৪০০ থাকায় মস্কো নতুন ব্যবস্থাটিকে দুই দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পরবর্তী ধাপ হিসেবে তুলে ধরছে। গত বছর ‘অপারেশন সিন্ধু’র সময় পাকিস্তানের দিক থেকে আসা বিমান হামলার
অন্যদিকে ভারতের যুদ্ধবিমান বহর নিয়েও তৈরি হয়েছে বড় উদ্বেগ। দেশটির নিজস্ব পঞ্চম প্রজন্মের এএমসিএ যুদ্ধবিমান হাতে পেতে আরও সময় লাগতে পারে। এই সুযোগেই এসইউ-৫৭ নিয়ে ভারতকে আগ্রহী করে তুলছে মস্কো। রাশিয়ার প্রস্তাবে প্রযুক্তি হস্তান্তর, ভারতে স্থানীয় উৎপাদন ও প্রয়োজনীয় উৎপাদন সক্ষমতা তৈরির সুযোগের ইঙ্গিত রয়েছে। কিন্তু এসইউ-৫৭ কিনলে নতুন যুদ্ধবিমান বহরে যুক্ত করার পাশাপাশি আলাদা প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ, অস্ত্র, খুচরা যন্ত্রাংশ ও সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে—যা দীর্ঘমেয়াদে বাড়াবে ব্যয় ও পরিচালন জটিলতা।
ভারতের সিদ্ধান্তকে আরও কঠিন করে তুলছে চীন ও পাকিস্তানের স্টেলথ যুদ্ধবিমান সক্ষমতা। চীনের কাছে ইতোমধ্যেই ৫০০টির বেশি জে-২০ স্টেলথ যুদ্ধবিমান রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে পাকিস্তানও চীনের তৈরি জে-৩৫ যুদ্ধবিমান পাওয়ার পথে এগোচ্ছে। ফলে ভারত একদিকে এএমসিএর জন্য অপেক্ষা করে স্টেলথ যুদ্ধবিমানের ঘাটতি দীর্ঘায়িত করবে, নাকি অন্তর্বর্তী সমাধান হিসেবে এসইউ-৫৭ কিনবে—সেই প্রশ্ন সামনে এসেছে। এর সঙ্গে রয়েছে রাশিয়ার সঙ্গে পুরোনো এফজিএফএ প্রকল্পের ইতিহাস, যা একসময় রুশ পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানকে ভিত্তি করে ভারতীয় সংস্করণ তৈরির লক্ষ্য নিয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি।
এস-৫০০ ও এসইউ-৫৭-এর বাইরেও ভারতের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা বাড়াতে চাইছে মস্কো। ভোরোনেঝ কৌশলগত আগাম সতর্কতা রাডারের ব্যবহার সম্প্রসারণ, এসইউ-৩০এমকেআই যুদ্ধবিমান আধুনিকায়ন এবং কিলো-শ্রেণির সাবমেরিনের উন্নয়ন নিয়েও সহযোগিতার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ভারত এখন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও ইসরায়েলের পাশাপাশি নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পেও বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। ফলে রাশিয়াকে পুরোনো সামরিক সম্পর্কের সুবিধা কাজে লাগিয়েই নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তির জন্য প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে। মোদি-পুতিনের আসন্ন বৈঠকে তাই শুধু অস্ত্র কেনাবেচা নয়, আগামী দুই দশকে ভারতের সামরিক সক্ষমতার গতিপথও বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
/টি