
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
কোরবানির মৌসুমে খাবার খাওয়ার সময় অসাবধানতার কারণে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। সম্প্রতি গলায় মাংসের হাড় আটকে গুরুতর অসুস্থ হয়ে আঁখি নামের ১১ বছর বয়সী এক কিশোরীর মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, এ ধরনের দুর্ঘটনা যেকোনো বয়সে ঘটতে পারে, তবে শিশু ও বয়োজ্যেষ্ঠরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। তাই খাওয়ার সময় সতর্ক থাকা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে কী করতে হবে, সে বিষয়ে সবার সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাওয়ার সময় গল্প করা বা মুখে খাবার নিয়ে কথা বলা বিপজ্জনক হতে পারে। এতে খাবারের ছোট অংশ বা হাড় গলায় আটকে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। কখনো কখনো খাবার শ্বাসনালিতে ঢুকে শ্বাসকষ্টসহ প্রাণঘাতী পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে।
শিশু ও বয়োজ্যেষ্ঠদের খাবার পরিবেশনের আগে বিশেষ সতর্কতা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। মাংস, তেহারি বা হাড়যুক্ত খাবার ভালোভাবে পরীক্ষা করে ছোট হাড় বা কাঁটা সরিয়ে দেওয়ার পর খেতে দেওয়া নিরাপদ বলে জানিয়েছেন তারা। কারণ শিশুদের গলার নালি তুলনামূলক সরু হওয়ায় ছোট হাড়ও বড় বিপদের কারণ হতে পারে।
গলায় হাড় আটকে গেলে প্রথমে হালকা কাশি দেওয়ার চেষ্টা করতে বলা হয়েছে। অনেক সময় এতে ছোট হাড় সরে যায়। অল্প অল্প করে পানি পান করা বা নরম খাবার যেমন কলা, ভেজানো রুটি কিংবা নরম ভাত খেলে হাড় নিচে নেমে যেতে পারে। তবে গিলতে অতিরিক্ত কষ্ট হলে জোর করে কিছু খাওয়া বা পান করা উচিত নয়। একই সঙ্গে গলার ভেতর আঙুল ঢুকিয়ে হাড় বের করার চেষ্টা না করার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা, কারণ এতে গলায় ক্ষত তৈরি হতে পারে এবং হাড় আরও গভীরে আটকে যেতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, কথা বলতে না পারা, অতিরিক্ত কাশি, বুকে ব্যথা, লালা গিলতে সমস্যা বা মুখ নীলচে হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। প্রয়োজন হলে এন্ডোস্কোপির মাধ্যমে আটকে থাকা হাড় বের করা হয়। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে খাদ্যনালিতে সংক্রমণ বা গুরুতর জটিলতা তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
/টিএ