
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
ভারতে প্রশ্নফাঁস ও বেকারত্বের মতো ইস্যুকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা শিক্ষার্থীদের ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাটফর্ম ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপির আন্দোলন নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি-বিজেপির জন্য। ইনস্টাগ্রামে শুরু হওয়া এই প্ল্যাটফর্মের আন্দোলন ধীরে ধীরে রাজপথে ছড়িয়ে পড়ে এবং তরুণদের ব্যাপক অংশগ্রহণে তা বড় বিক্ষোভে রূপ নেয়।
আল জাজিরার এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, গত মে মাসে ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিজেপির যাত্রা শুরু হয়। পরে টানা সাত সপ্তাহের ছাত্র আন্দোলন দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। আন্দোলনের চাপের মুখে সম্প্রতি ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা
তবে আন্দোলনের প্রভাব শুধু একজন মন্ত্রীর পদত্যাগেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। বিহারের বাঁকিপুর বিধানসভা কেন্দ্রের মতো বিজেপির দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটিতে দলের পরাজয় এবং সাম্প্রতিক কয়েকটি উপনির্বাচনের ফলাফল তরুণদের মধ্যে শাসকদলের প্রতি বাড়তে থাকা অসন্তোষের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে চাকরি, শিক্ষাব্যবস্থা ও প্রশ্নফাঁসের মতো বিষয়গুলো তরুণ ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়াচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ প্রশমনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করেছেন। ইনস্টাগ্রামে সেলফি-ভিডিওসহ নানা প্রচারণামূলক উদ্যোগ নেওয়া হলেও তরুণদের প্রতিক্রিয়া ছিল মিশ্র ও সমালোচনামূলক। বিশ্লেষকদের মতে, অতীতে বিজেপি সরকারবিরোধী বিভিন্ন আন্দোলনকে ধর্মীয় বা আদর্শিক পরিচয়ের ভিত্তিতে মোকাবিলা করতে পারলেও জেন-জি প্রজন্মের এই তুলনামূলকভাবে সর্বজনীন ক্ষোভকে একই কৌশলে সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
রাজনীতি বিশ্লেষকদের ধারণা, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলে পরিণত না হলেও এর তৈরি করা চাপ ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। বিজেপি তাদের হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরে না গেলেও তরুণদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা ধরে রাখতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যোগাযোগের ধরন ও রাজনৈতিক প্রচারণায় পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছে। ফলে তরুণদের এই অসন্তোষ আগামী দিনে ভারতের রাজনীতিতে বিজেপির জন্য কতটা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে ওঠে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
/টি