
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
চায়ের সঙ্গে গরম গরম শিঙাড়া খেতে পছন্দ করেন না, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। রাস্তার পাশের দোকান থেকে শুরু করে অফিসের নাশতার টেবিল—সবখানেই জনপ্রিয় এই মুখরোচক খাবার। তবে খালি পেটে শিঙাড়া খেলে কারও কারও পেটে গ্যাস, বুকজ্বালা, টক ঢেকুর ও বমিভাবের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই বদহজম বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা রয়েছে, তাদের অস্বস্তি বাড়তে পারে।
সাধারণত ময়দার আবরণে আলু ও মসলা ভরে ডুবো তেলে ভেজে তৈরি করা হয় শিঙাড়া। ফলে এতে চর্বি ও ক্যালরির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে। খালি পেটে বা অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে প্রথমত বুকজ্বালা ও টক ঢেকুরের সমস্যা দেখা দিতে পারে। দ্বিতীয়ত, তেলে ভাজা খাবার হজম হতে বেশি সময় লাগায় পেট ভার, পেট ফাঁপা ও বমিভাব হতে পারে। তৃতীয়ত, নিয়মিত বেশি পরিমাণে শিঙাড়া খেলে শরীরে অতিরিক্ত ক্যালরি জমে ওজন বাড়তে পারে। চতুর্থত, দীর্ঘদিন অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়ার অভ্যাস হৃদ্রোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও রক্তে কোলেস্টেরল বৃদ্ধির ঝুঁকিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
শিঙাড়া খাওয়ার পর বুকজ্বালা বা পেটের অস্বস্তি হলে স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি অল্প অল্প করে পান করতে পারেন। খাওয়ার পরপরই শুয়ে না পড়ে অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টা সোজা হয়ে থাকুন। শরীর ভালো থাকলে হালকা হাঁটাচলাও করতে পারেন। জোয়ান, মৌরি, দুধ, কলা বা দই খেলে সবার অস্বস্তি কমবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। বরং কোন খাবারে নিজের সমস্যা বাড়ছে, তা খেয়াল রাখা জরুরি। বিশেষ করে অতিরিক্ত বিট লবণ খাওয়া এড়িয়ে চলুন, কারণ এতে সোডিয়াম থাকে।
খালি পেটে শিঙাড়া খেলেই যে সবার শারীরিক সমস্যা হবে, তা নয়। তবে যাদের তৈলাক্ত খাবারে অস্বস্তি হয়, তারা আগে হালকা ও সুষম খাবার খেতে পারেন এবং একসঙ্গে বেশি শিঙাড়া খাওয়া এড়িয়ে চলতে পারেন। অতিরিক্ত ঝাল চাটনি ও কোমল পানীয় থেকেও সতর্ক থাকা ভালো। বারবার বুকজ্বালা বা বদহজম হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। আর বুকের তীব্র ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা ঘাম কিংবা ব্যথা হাত, পিঠ বা চোয়ালে ছড়িয়ে পড়লে জরুরি চিকিৎসা নিন। তাই শিঙাড়া পুরোপুরি বাদ না দিয়ে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখাই ভালো।
টি/